তলিয়ে গেছে মসজিদ ও হাট-বাজার

মাতামুহুরী নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনে চরম হুমকিতে বেতুয়া বাজার সেতু নদীগর্ভে

fec-image

চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন জনপদে আবারও ভয়াবহ ভাঙ্গনের তান্ডব শুরু হয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমের টানা এক সপ্তাহ ধরে অভিরাম ভারী বৃষ্টিপাত ও নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানি কমে যাওয়ার পরপর নদীর তীরবর্তী বেতুয়াবাজার সেতু পয়েন্টে শুরু হয়েছে নদী ভাঙ্গনের খেলা।

এতে চরম হুমকিতে পড়েছে বেতুয়া বাজার সেতু (হযরত আবু বক্কর ছিদ্দিক( রাঃ) সেতু)। পানির তোড়ে পড়ে নদীগর্ভে সম্পূর্ণ তলিয়েগেছে ঐতিহ্যবাহী বেতুয়া বাজার জামে মসজিদও।

ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে বর্তমানে সেতুর পিলারের নিচে মাটি সরে যাওয়ায় বড় ধরণের হুমকির মুখে পড়েছে হযরত আবু বক্কর ছিদ্দিক (রাঃ) সেতু তথা বেতুয়া বাজার ব্রীজ। ফলে ব্রীজ ভাঙ্গন আতঙ্কে উপকূল ইউনিয়নের বসবাসরত প্রায় দেড় লক্ষাধিক জনসাধারণ যাতায়াত নিয়ে চরম আতংকে ভুগছেন।

সরেজমিনে দেখাগেছে, চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী নদীর ওপর বেতুয়া বাজার পয়েন্টে ২০০৪ সালে নির্মিত হয় হযরত আবু বক্কর ছিদ্দিক (রাঃ) সেতু তথা বেতুযা বাজার ব্রীজ। জনগুরুত্বপূর্ণ এ ব্রীজের ওপর দিয়ে উপজেলার উপকূলীয় চারটি ইউনিয়ন মধ্যে পূর্ব বড় ভেওলা, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া, বিএমচর ইউনিয়নের অন্তত লক্ষাধিক বাসিন্দা নিয়মিত যাতায়ত করে আসছে।

এ ছাড়াও পাশ্ববর্তী পেকুয়া উপজেলা অন্তত অর্ধলক্ষ জনগোষ্ঠী নিয়মিত বিভিন্ন পরিবহণের মাধ্যমে যাতায়ত করে। বর্তমানে সেতুর পিলারের যে নাজুক অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে তা যেকোন মুহুর্তে ধসে পড়ে যাওয়ার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। সেতুটি ভেঙ্গে গেলে উপকূলীয় চার ইউনিয়ন জনসাধারণসহ দেড়লক্ষ জনগোষ্ঠী যাতায়তে চরম ভোগান্তির শিকার হবে। সেতুটি পিলারের ভাঙ্গনকৃত বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে উপজেলা সদরের সাথে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

শুক্রবার বিকেলে সেতুটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছবি ও ভিড়িও ফুটেজ ভাইরাল হয়ে পড়লে রাত সাতটার দিকে ঘটনাস্থল (ব্রীজের) পিলারের ভাঙ্গনকৃত দৃশ্য পরিদর্শনে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আজিম বুলু জানান, জনতা মার্কেট-বিএমচর-বাগগুজারা সড়কের যাতায়তের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হচ্ছে বেতুয়া বাজার ব্রীজ। ব্রীজের পিলারের মাটি সরে বর্তমানে চরম হুমকি মধ্যে। যে কোন মুহুর্তে ব্রীজ ধসে পড়ার সম্ভবনা। বিচ্ছিন্ন হতে পারে চার ইউনিয়নের বাসিন্দাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা। মাতামুহুরী নদীর প্রবল স্রোতে পুরাতন জামে মসজিদটি নদীগর্ভে সম্পূর্ণ বিলীন।

স্থানীয়রা ব্রীজ ও বাজার রক্ষা করতে চকরিয়া-পেকুয়া আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, ব্রীজের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বর্তমানে মাতামুহুরী নদীর ওপর নির্মিত বেতুয়া বাজার সেতুর পশ্চিমের পিলারটি চরম হুমকিতে। বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষনিক ভাবে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মাননীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত করা হয়। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডে নির্বাহী প্রকৌশলী চয়ন কুমার ত্রিপুরা বলেন, নদীর তীরবর্তী ভাঙ্গনকৃত বিষয়টি নিয়ে উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অনুমতি পেলেই ভাঙ্গনকৃত এলাকায় দ্রুত কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি জানান।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × five =

আরও পড়ুন