রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর সহায়তার উদ্দেশে গঠিত হয় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’। তবে বর্তমানে দলীয় পরিসর ছাড়িয়ে শহীদ পরিবার, আহত ব্যক্তি, অসহায় মানুষ এবং শিক্ষার্থীদের সহায়তায় দেশব্যাপী মানবিক কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এই সংগঠনটি।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত তারা ২৯২টি শহীদ পরিবার ও ২৮৫ জন আহত ব্যক্তির পাশে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১৮০ শিশুর জন্য নিয়মিত শিক্ষা সহায়তা ও মাসিক বৃত্তির ব্যবস্থা করেছে।
বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা সংগঠনটি জুলাই গণআন্দোলনের শহীদ পরিবার ও আহতদের সহায়তায়ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর), জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এবং জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে আহতদের চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দল ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের বহু নেতাকর্মী গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হন। এসব ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো, চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া, ঈদে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ এবং এতিম সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার মতো উদ্যোগ থেকেই ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর কার্যক্রমের ভিত্তি তৈরি হয়।
সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০২৪ সালের ২২ মার্চ। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমনকে আহ্বায়ক এবং কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনকে সদস্যসচিব করে এর কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে রুমন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিবের দায়িত্বও পালন করছেন।
সংগঠনটির কার্যক্রম রাজধানী বা বড় শহরে সীমাবদ্ধ নয়। রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, সেন্টমার্টিনের উপকূল, সীমান্তবর্তী জনপদ এবং বন্যাকবলিত এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। রাঙামাটিতে নারী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমার পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া এবং সেন্টমার্টিনের জেলে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘটনাও আলোচনায় আসে।
তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনেও গুরুত্ব দিচ্ছে সংগঠনটি। নীলফামারীতে শহীদ রব্বানির পরিবারের জন্য নতুন বাড়ি নির্মাণ, ফেনীতে নিহত হারুনের পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থানের জন্য রিকশা, অটোরিকশা ও ক্ষুদ্র ব্যবসার পুঁজি প্রদানের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারগুলোকে স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করা হয়েছে।
চিকিৎসা সহায়তার ক্ষেত্রেও রয়েছে বিস্তৃত কার্যক্রম। ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত অসহায় মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হুইলচেয়ার বিতরণ, চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।
শিক্ষা ও মেধা বিকাশেও কাজ করছে সংগঠনটি। শহীদ পরিবারের সন্তানদের বৃত্তি প্রদান, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেওয়া এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী উদ্যোগে সহায়তা করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের বাঁশখালীর এক তরুণ ড্রোন উদ্ভাবকের গবেষণা কার্যক্রমে আর্থিক সহায়তা প্রদান এর একটি উদাহরণ।
এ ছাড়া সামাজিক দায়িত্ববোধ ও পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কর্মকাণ্ডেও অংশ নিচ্ছে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’। বিভিন্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লেক পরিষ্কার, মাছের পোনা অবমুক্তকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডাস্টবিন স্থাপনের মতো কর্মসূচি পরিচালনা করেছে সংগঠনটি। দুর্যোগ ও দুর্ঘটনার সময়ও তাদের সদস্যদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় দেখা গেছে।
