মানিকছড়িতে আনারসের আগাম ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

fec-image

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা প্রকৃতিগতভাবে উচুঁ-নিচু সবুজ পাহাড়ে ঘেরা। এসব পাহাড়ে বসবাসকারী কৃষকরা ফল ফলাদির বাগান সৃজন করে পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেন। চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ির সীমান্তবর্তী পাহাড়-সমতলে ঘেরা মানিকছড়ি উপজেলার শতাধিক চাষী বিগত বছরের বৈশ্বিক মহামারী করোনায় ফলনে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হলেও এবার তারা পাহাড়ে আগাম আনারস চাষে বেশ চমক দেখাতে সক্ষম হয়েছেন।

পাহাড়ের পরতে পরতে সারি সারি ক্ষেতে এখন শোভা পাচ্ছে আনারস। এখন থেকে টানা ৩-৪ মাস আনারস বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন এখানকার কৃষক। বর্তমানে প্রতি পিস আনারস পাইকারী বিক্রি হচ্ছে গড়ে ১৩-১৪ টাকা। আয় উৎপাদনে খরচ ৬-৭ টাকা। আর এসব আনারস ঢাকাসহ সমতলে বিক্রি হচ্ছে গড়ে ২০-২৫ টাকা।

গত বছর বৈশ্বিক মহামারি ‘করোনা’ ভাইরাস প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত লকডাউনে হাঁট-বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি অনেক থাকায় এবং পচনশীল রসালো ফল আনারস চাষে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হয়েছিল এখানাকার শতশত কৃষকদের। অনেকে পুঁজি হারিয়ে নিঃস্বও হয়েছেন। তবে এবার অনেকটা আগে-ভাগেই আধুনিকতার পরশে আনারস চাষে চমক আনতে সক্ষম হয়েছেন কৃষকরা। সাধারণ রসালো ফল আনারস চৈত্র-বৈশাখ বা মে-জুন মাসের ফল। নাভিশ্বাস গরমে নাকাল মানুষজন কঠিন পরিশ্রমে নিজেকে প্রশান্তি দিতে আনারসের রস খেতে কারই বা ভালো না লাগে। তাই রসালো ফল আনারস সর্বত্রই বেশ জনপ্রিয় ফল। পাহাড়ের আনারস হলে তো সমতলে এর কদর একটু বেশি হওয়াই স্বাভাবিক। তাই পাহাড়ের আনারস ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সমতল গেলে ক্রেতার ভীড় লেগেই থাকে। ফলে এখানকার পাহাড়ের পতিত জমি বর্গা নিয়ে কৃষকরা আনারস চাষে ঝুকছে বেশি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ৫/৭বছর ধরে মানিকছড়ির পাহাড়ি(টিলা) পতিত জমিতে হতদরিদ্র কৃষকরা দলবেঁধে নিজের কিংবা পরের জমি বর্গা নিয়ে আনারস চাষ করে আসছেন। ভাল ফলন ও ন্যায্য দাম পাওয়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে চাষীর সংখ্যা। এ বছর উপজেলার বাটনাতলী ও মানিকছড়ি ইউপি’র প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে শতাধিক কৃষক আনারসের বাগান সৃজন করেছেন।

উপজেলার ওসমানপল্লী, গভামারা ও হাতিমুড়ার সফল চাষী মো. নুর আলম ও গচ্ছাবিল এলাকার মো. রাজ্জাক আলী জানান, আনারস চাষ লাভজনক হলেও প্রকৃতির ওপর নির্ভর করেই কৃষকের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। যেমন গত বছর করোনার লকডাউনে হাঁট-বাজারে ক্রেতা উপস্থিতি অনেক থাকায় এবং পচনশীল রসালো ফল আনারস চাষে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হয়েছিল! প্রতি একর জমিতে ৩৪/৩৫ হাজার আনারস উৎপাদনে খরচ ২লক্ষ ২০ হাজার থেকে ২ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা। আর ফলন ভালো হলে বিক্রি কমপক্ষে সোয়া ৪ লক্ষ টাকা থেকে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকারও অধিক। সরজমিনে প্রতিটি আনারস গড়ে পাইকারী বিক্রি ১৩-১৪ টাকা। যা ঢাকা-চট্টগ্রামে গড়ে বিক্রি ২০-২৫ টাকা। মোট কথা আনারস চাষে ৪৫-৫০% লাভ করা সম্ভব। বর্তমানে উপজেলা থেকে গড়ে প্রতিদিন ৫/৬ ট্রাক আনারস রাজধানীসহ সমতলে যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসিনুর রহমান বলেন, বৈজ্ঞানিক পদ্বতিতে আনারস চাষে কৃষক এবার আগাম ফলন আনতে সক্ষম হয়েছে। আমরা সাধারণ আধুনিক পরামর্শ ছাড়া কৃষকদের তেমন সহযোগিতা দিতে পারি না। অনেকে কৃষিবীদদের পরামর্শ ছাড়াই গাছ ও ফলে মাত্রাতিরিক্ত হরমোন ব্যবহারের ফলে অকালে-অসময়ে গাছ পরিপক্ক না হয়েই ফল আসতে শুরু করে। তবে এই ফল সু-স্বাদু কম। প্রতিটি গাছ রোপনের পর কমপক্ষে ২২-২৩টি পাতা গজালে তারপর গাছে ফল আসার সময় হয়। ওই সময় যথা নিয়মে হরমোন ব্যবহার করলে এক সাথে গাছে ফল আসে, ফল পরিপক্ক হয় এবং পাকা শুরু করে। এই নিয়ম মেনে পাহাড়ে রসালো ফল আনারস চাষ করলে কৃষকরা অল্প পুঁজিতে অধিক লাভবান হওয়া সম্ভব।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × one =

আরও পড়ুন