মানিকছড়িতে গৃহহীন পরিবারের খোঁজে লোকালয়ে প্রশাসন

fec-image

‘আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার’ এই প্রতিপাদ্যে সারাদেশে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীন অসহায় পরিবারে দুই শতক ভূমি ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় সেমিপাকা ঘর দিয়ে অসহায় মানুষকে মাথাগোজার ঠাঁই করে দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলায় এই সুবিধা পেয়েছেন ৬৭২ পরিবার। এখন তৃতীয় পর্যায়ের আবেদন যাচাই-বাছাই এবং বাকি অসহায় ও দুর্গত মানুষের বাস্তবচিত্র সরজমিনে দেখতে মাঠে নেমেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রক্তিম চৌধুরী। এতে উপকারভোগী প্রত্যাশিরা স্বস্তিবোধ করছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশব্যাপী আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ভূমহীন, গৃহহীন পরিবারে ২ শতক ভূমি ও সেমিপাকা ঘর বানিয়ে দুস্থ, অসহায় মানুষের বাসস্থান নিশ্চিত করছেন। এরই অংশ হিসেবে উপজেলায় ইতোমধ্যে ১ম পর্যায়ে ৬০০ এবং ২য় পর্যায়ে ৭২ পরিবারে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এখন ৩য় পর্যায়ে আরও ৫০টি ঘর বিতরণে উপজেলার সুবিধাবঞ্চিত সাঁওতাল, প্রতিবন্ধী, বিধবা, ভবঘুরে, অভিভাবকহীন ও ভিটেমাটি হারা মানুষজনের আবেদন চুল-ছেঁড়া যাচাই-বাছাইয়ে মাঠে নেমেছেন স্বয়ং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রক্তিম চৌধুরী।

পুরো মে মাস জুড়ে ইউএনও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যকে নিয়ে উপজেলার প্রাচীন ও অনুন্নত জনপদ সাঁওতাল পল্লি, রাঙ্গাপানি, ভুতাইছড়ি, বরইতলী, মলঙ্গীপাড়া লেমুয়াসহ প্রতিটি ইউপির প্রতিটি ওয়ার্ডে পিছিয়ে থাকা জনপদ ও জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারা এবং প্রধানমন্ত্রীর উপহারে সম্পৃক্ত করতে তৃণমূল চষে বেড়াচ্ছেন। বিষয়টি জনমনে প্রসংশিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মে) বিকেলে লেমুয়া ও এয়াতলং পাড়া এলাকায় আবেদনকারীদের বাস্তব অবস্থা দেখতে গিয়ে ইউএনও রক্তিম চৌধুরী বলেন, এখনো উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় অনেক অসহায়, দুস্থ ও অভিভাবকহীন পরিবার রয়েছে। যারা জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসনের নজরে ইতোপূর্বে আসেনি! বিশেষ করে উপজেলার প্রাচীন জনগোষ্ঠী সাঁওতাল পরিবারসহ দূর্বিসহ জীবন-যাপনকারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করছি।ধারাবাহিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর ও ভূমি দিয়ে মানুষের মৌলিক অধিকার বাসস্থান নিশ্চিত করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রক্তিম চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাহসী উদ্যোগ ও অসহায় মানুষের প্রতি তার ভালোবাসার ফসল এই ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারে গৃহ নির্মাণ প্রকল্পটি বিশ্বে নজর কেড়েছে। উপজেলায় এখনো সুবিধাবঞ্চিত সাঁওতালসহ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার রয়েছে। তাঁদের আবেদন যাছাই করতে জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা চাই। যাতে আমরা বলতে পারি উপজেলায় একজন মানুষও ভূমিহীন,গৃহহীন নেই। প্রধানমন্ত্রীর এই মহতি উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিতরা যেন বাদ না পড়ে। এখনো অনেক পরিবার সুবিধা পাওয়ার যোগ্য। আমরা তাঁদেরকে এবং অন্নুত এলাকায় সরকারি সুবিধা পৌঁছে দিতে কাজ করছি।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty − seven =

আরও পড়ুন