মানিকছড়িতে ভিজিডি’র চাউল কালোবাজারে: পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত সিদ্ধ চাউল বিতরণে ক্ষোভ

fec-image

মানিকছড়িতে দুঃস্থ মহিলাদের উন্নয়নে বরাদ্ধকৃত ভিজিডি’র এপ্রিল মাসের বরাদ্ধ ৪৩ মেট্রিক টন আতপ চাউল কালোবাজারে বিক্রি করে নিম্নমানের পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত সিদ্ধ বিতরণ করা হচ্ছে! চাউল উত্তোলনে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন উপকারভোগী দুঃস্থ মহিলারা।

সরেজমিন ও বরাদ্দপত্র অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সরকার দেশব্যাপী দুঃস্থ মহিলাদের উন্নয়নে (ভিজিডি) প্রতি মাসে ৩০ কেজি হারে খাদ্যশস্য বিতরণ করে আসছে। আর সুযোগে খাদ্য গুদামের ওসিএলএসডি ও প্রকল্প চেয়ারম্যানরা মিলে এসব অসহায় নারীদের খাদ্যশস্য নিয়ে নিয়মিত বাণিজ্য করে যাচ্ছে! উপজেলার চার ইউপি’র ১ মানিকছড়িতে সুবিধাভোগী ৫শ কার্ড, ২নং বাটনাতলী ইউপিতে ২শত ৯০ কার্ড, ৩নং যোগ্যাছোলা ইউপিতে ৩শত ৯ কার্ড ও ৪নং তিনটহরী ইউপিতে ৩শত ৬৫ কার্ডধারী দুঃস্থ মহিলার জন্য চলতি এপ্রিল মাসের বরাদ্দ গত ১১ এপ্রিল ছাড়পত্র ইস্যু করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জুলিয়াস চাকমা।

এর সংশ্লিষ্ট প্রকল্প চেয়ারম্যানগণ (ইউপি চেয়ারম্যান) তাদের বিশ্বস্থ সচিব কিংবা নিজে খাদ্যগুদাম থেকে ছাড়পত্র অনুযায়ী বরাদ্দ পরিষদে নিয়ে বিতরণের ব্যবস্থা করেন। ইতোমধ্যে ১নং মানিকছড়ি ইউপিতে বিতরণ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অন্য ইউপিতে ১৯ এপ্রিল থেকে বিতরণ করার তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। এদিকে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের ছাড়পত্রে দেখা গেছে বরাদ্দের সকল চাউল আতপ। চার ইউনিয়নে মোট ৪৩ মেট্রিক টন ৯শত ২০ কেজি আতপ চাউল খাদ্যগুদাম থেকে উত্তোলন করার কথা বলা হলেও সরেজমিনে বিতরণ এবং ইউপি’র গুদামে সংরক্ষিত আছে সব নিন্মমানের পচা,  দুর্গন্ধযুক্ত সিদ্ধ চাউল!

উক্ত প্রকল্পের সদস্য সচিব উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. কামরুল আলম ও খাদ্য নিয়ন্ত্রক জুলিয়াস চাকমা জানান, বরাদ্দ অনুযায়ী প্রতি মাসে দুঃস্থ মহিলাদের জন্য ৩০কেজি আতপ চাউলের বস্তার ছাড়পত্র ইস্যু করা হয়। এবারও এপ্রিল-২১ মাসের বরাদ্দ গত ১১ এপ্রিল রবিবার ছাড়পত্র ইস্যু করা হয়। এরপর খাদ্যগুদামে দায়িত্বরত ওসিএলএসডি তা প্রকল্প চেয়ারম্যানদের বুঝিয়ে দেন। চাউল উত্তোলনকালে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প (ইউপি) চেয়ারম্যানগণ কিংবা প্রতিনিধিরা ছাড়পত্র অনুযায়ী চাউল উত্তোলন করে বিতরণ করবে।

১৮ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১১টায় ১নং মানিকছড়ি ইউপিতে গিয়ে দেখা গেছে, সচিব মো. মোশাররফ হোসেন মজনু দুঃস্থ মহিলাদের কার্ড দেখে দেখে ভিজিডি বিতরণ করছেন। এ সময় প্রতিটি মহিলা বস্তা হাতে নেওয়ার আগেই বলছেন এবারের চাউল ভালো কী না! অনেকে সচিবের সামনে বস্তা খুলে পচা, দুর্গন্ধ ও সিদ্ধ চাউল দেখে প্রতিবাদ করছে। কিন্তু সচিব অসহায়ের মতো বলছেন সরকার যা দিয়েছে , আমার করার কিছু নেই! এ সময় একজন অসহায় দুঃস্থ মহিলা কান্নাকাটি করে বলছেন এই রোজায় এই পচা ও দুর্গন্ধ চাউল কিভাবে খাবো! তখন প্রতিবেদকের অনুরোধে ওই মহিলার পচা চাউল পরিবর্তন করে সিদ্ধ চাউলই বিতরণ করা হলো।

এ সময় সচিব মো. মোশাররফ হোসেন জানান, খাদ্যগুদাম থেকে সিদ্ধ ও নিম্নমানের এই চাউলই দেয়া হয়েছে। বাটনাতলী ইউপি সচিব মো. আবদুল হাকিম জানান, এখানে ২শত ৯০ বস্তা চাউরই সিদ্ধ। ১৯ এপ্রিল বিতরণ করার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরে এ বিষয়ে যোগ্যাছোলা চেয়ারম্যান ক্যয়জরী মহাজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনিও অপকটে জানান, খাদ্যগুদাম থেকে এসব নিম্নমানের সিদ্ধ চাউলই ছাড় করা হয়েছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান মো. জয়নাল আবেদীন এ প্রসঙ্গে বলেন, বরাদ্দ আতপ কিন্তু গুদাম থেকে বা যে কোনভাবে সিদ্ধ চাউল বিতরণ হয়ে থাকলে এক্ষুনি তা খতিয়ে দেখছি। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তামান্না মাহমুদ’র দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি দ্রুত তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × two =

আরও পড়ুন