মানিকছড়ির মৌলভী পাড়া গুচ্ছগ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ

fec-image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিনামূল্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা কার্যকর হচ্ছে না খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলায়। বরং এ উপজেলা মৌলভীপাড়া গুচ্ছগ্রাম এলাকায় বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় শাসকদলের একাংশের নেতাদের বিরুদ্ধে।

এলাকার সহজ-সরল মানুষকে বিদ্যুৎ এনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার দুই বছর পার হলেও ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের কোন লক্ষণ নেই। এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশের নেতারা যেমন ক্ষুব্ধ তেমনী ভূক্তভোগিরা বিভিন্ন দপ্তরে দফায় দফায় ধরনা দিয়েও কোন প্রতিকার না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশায় দিন পার করছেন। বিদ্যুৎতো পায়নি বরং এখন উল্টো হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ তাদের। অপর পক্ষ এ সব অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করেছেন।

মানিকছড়ি উপজেলার মৌলভী পাড়া গুচ্ছগ্রাম এলাকায় প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের বসবাস। ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতারা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করার জন্য চাঁদা দাবি করে।

মাইকে বলা হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার দিলে বাড়ীর পাশে বিদ্যুতের খাম্বা বসছে আর ৫ হাজার টাকা দিলে বাসায় বাসায় বিদ্যুতের সংযোগ যাবে। সরল বিশ্বাসে এলাকার লোকজনও হুমড়ি খেয়ে ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত তুলে দেন ঐসব নেতাদের হাতে। কিন্তু গত দুই বছরেও ওই এলাকায় বিদ্যুতের আলো তো দুরের কথা খাম্বাও যায়নি। এখন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য আরও নতুন টাকা দাবি করছে।এ নিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিনামূল্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হাই প্রথমে এলাকাবাসীর কথা চিন্তা করে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা আসাদুল ইসলামের হাতে তুলে দেন এক লাখ এক হাজার টাকা। কিন্তু গত তিন বছরেও এলাকায় বিদ্যুৎ না যাওয়ায় তিনিও বিচার প্রার্থী। তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অপর আওয়ামী লীগের নেতা আসাদুল ইসলাম।

মৌলভীপাড়া গুচ্ছগ্রাম মসজিদ কমিটি সভাপতি বাবুল মিয়া বলেন, আসাদুল ইসলাম সু-খবরের কথা বলে মসজিদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, এলাকায় বিদ্যুৎ আসছে। আপনারা প্রতি খাম্বার জন্য ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আর ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে হলে ৫ হাজার টাকা দিতে হবে। আমরা সরল বিশ্বাসে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা আব্দুল হাইয়ের মাধ্যমে সমাজ কমিটি বৈঠক করে আসাদুল ইসলামের হাতে এক লাখ এক হাজার টাকা তুলে দিয়েছি। কিন্তু প্রায় দুই বছর পার হলেও এখনো কারো ভাগ্যে বিদ্যুৎ জটেনি।স্থানীয়দের অভিযোগ এ ঘটনায় তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা থেকে শুরু করে সবগুলো দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেও কোন প্রতিকার পায়নি। তিনি এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় বিচার দাবি করেন।

মানিকছড়ি উপজেলার ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. আব্দুল হাই বলেন, আমরা সরল বিশ্বাসে এলাকাকে বিদ্যুতের আলোতে আলোকিত করার জন্য আসাদুল ইসলামের হাতে টাকা তুলে দিয়েছি। কিন্তু এলাকা এখনো বিদ্যুতের আলো দেখেনি।

মানিকছড়ি উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। এলাকার মানুষের পাশে থেকে কাজ করার কারণে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। ভুয়া স্বাক্ষর নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে দরখাস্ত দিয়ে আমাকে হয়রানী করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমি কোন অন্যায় করিনি। আমার জনপ্রিয়তায় ইর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

মানিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাঈন উদ্দিন বলেন, বাস্তবে এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। এটা নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা। মানিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দপ্তরেও উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক হয়েছে। ওই সভায় যারা বিদ্যুতের প্রয়োজন নেই বলে টাকা ফেরত চেয়েছে তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

এ দিকে মানিকছড়ি মৌলভিপাড়া গুচ্ছগ্রাম বিদ্যুৎ প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলী যত্ন মানিক চাকমা বলেন, মৌলভীপাড়া গুচ্ছগ্রাম এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য কাজ চলছে। এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের নামে কেউ চাঁদা আদায় করে থাকলে তার সাথে বিদ্যুৎ বিভাগের কোন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা নেই। বিনামূল্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা স্থানীয় শাসকদলের নেতাদের নানা অপকর্মে বিঘ্নিত হচ্ছে। এতে সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: অভিযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen − one =

আরও পড়ুন