মানিকছড়ি ‘ডিসি পার্কে’ আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রের পরিকল্পনায় ভ্রমণপিপাসু মানুষের উচ্ছ্বাস

fec-image

সবুজ অরণ্য আর নীল জলাশয়ে ঘেরা খাগড়াছড়ি’র মানিকছড়ি উপজেলার ১৪০ একর বেদখলীয় ভূমি উদ্ধার করে তাতে আকর্ষণীয় ও পর্যটক বান্ধব করতে কর্টেজ, হার্টিকালচার পার্ক ও পিকনিক স্পট নির্মাণ, আশ্রয় প্রকল্প, বিদ্যুৎ সংযোগ ও সড়ক উন্নয়নে মাস্টারপ্ল্যান করেছে প্রশাসন। এতে জনপদে সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান। আর তাতে বদলে যাবে মানুষের জীবনমান। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্জণ ও গহীণ অরণ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে বার্ষিক বনভোজন।

সরজমিন ও প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, উপজেলার ২১৪নং ডলু মৌজার অন্দরে প্রায় ৪শ একর টিলার ভূমির মধ্যে দীর্ঘ ৩ যুগের অধিক সময় বেদখলে থাকা ১৪০.২০ একর সরকারি ভূমি সম্প্রতিকালে উদ্ধার করেছে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস। সবুজ অরণ্য ঘেরা বনভূমি আর নীল জলরাশীতে আচ্ছাদিত অপরূপ সৌন্দর্য্যে নয়নাভিরাম এই ভূমিকে পর্যটন শিল্প হিসেবে পর্যটক বান্ধব করতে মানিকছড়ি ‘ডিসি পার্ক’ নামকরণ করা হয়েছে। আর সেখানে পর্যটকদের অবাধ আনা-গোনা ও মনোরম পরিবেশ সৃষ্টিতে নেওয়া হয়েছে নানা পরিকল্পনা। ইতোমধ্যে সেখানে কর্টেজ, হার্টিকালচার পার্ক ও পিকনিক স্পট নির্মাণ, আশ্রয়ণ প্রকল্প স্থাপন, বিদ্যুৎ সংযোগ ও সড়ক উন্নয়নে মাস্টারপ্ল্যান প্রস্তুত করে কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। এতে করে লোকালয়ে সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান, বদলে যাবে জনপদ। জেলার পর্যটন শিল্পে আসবে গতি এমনটাই প্রত্যাশা করছেন জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

গত ১ জানুয়ারি (শনিবার) খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় ওই নিভৃত ও জনমানবহীন গহীণ অরণ্যে পালিত হয়েছে জেলা প্রশাসনের বার্ষিক বনভোজন পর্ব। এ সময় সস্ত্রীক জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস ও সকল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার(ভূমি) সপরিবারে উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক ‘ মানিকছড়ি ডিসি পার্কের প্রধান ফটক(গেইট) ফিতা কেটে উদ্বাধন করেন।

প্রশাসনের উপস্থিতি এবং পর্যটক বান্ধব কর্মসূচি স্বচোখে দেখে জনপ্রতিনিধি উপজেলা চেয়ারম্যান মো. জয়নাল আবেদীন ও ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা গ্র্যাজুয়েট ফোরাম সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম মোহন পার্বত্যনিউজকে বলেন, দীর্ঘ দিন বেদখলে থাকা সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের মধ্য দিয়ে জেলা প্রশাসকের যুগোপযোগি সিদ্ধান্তে এই অবহেলিত জনপদে উন্নয়নে আশার আলো দেখছি। এটির উন্নয়নে জনপ্রতিনিধি হিসেবে আন্তরিক হয়ে কাজ করবো। ৩ যুগের অধিক সময় বেদখলে থাকা ১৪০.২০একর সবুজ অরণ্যেঘেরা পাহাড়ের ডালে-অপডালে ৬.৪৪ একর নিচু ভূমিতে রয়েছে ৩টি লেক, সহস্রাধিক রাবার গাছ, আম, জাম কাঠাঁলসহ নানা প্রজাতির অসংখ্য ফলদ-বনজ বৃক্ষরাজির সমাহার। যেদিকে দৃষ্টি যাবে নয়নজুড়িয়ে আসবে যে কারো।

এছাড়া পাহাড়ে আঁড়ালে আঁড়ালে লেকের পাড়ে দেখা মিলবে বনো ডাহুক, পানি ও আকাশে দেখা মিলবে পাতিহাঁসের টহল, মাঝে মাঝে কানে ভেসে আসবে হরিণের ডাক। এছাড়া বানর, হনুমান, গন্ধকগোকুলসহ বিরল প্রজাতির প্রাণির অস্তিত্ব রয়েছে এই অঘোর বনে। এ যেন এক অচেনা পরিবেশে প্রশান্তির ছায়া। এসব প্রাকৃতিক সম্পদের ফলদ বাগান রক্ষণা-বেক্ষণে ৩ বছরের জন্য তা লীজ প্রদান করা হয়েছে। এতে সরকারের আয় হয়েছে ৬লক্ষ ৪ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে মানিকছড়ি বনবিভাগ রেঞ্জ কর্মকর্তা উহ্লামং চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, এই বিশাল অরণ্যে এতদিন অবহেলায় পড়ে থাকা প্রাকৃতিক সম্পদকে অপরিবর্তিত রেখে বিশ্বমানের ইকোটোরিজাম জোন হিসেবে এই ডিসি পার্ককে গড়ে তোলা গেলে নিঃসন্দেহে এটি হবে পার্বত্য জেলার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র। এ বিষয়ে বনবিভাগ প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বা এ প্রসঙ্গে বলেন, উপজেলার এই প্রত্যন্ত জনপদে বেদখলে থাকা বিশাল সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার ও এটিকে রাষ্ট্রীয় সম্পদে পরিণত করে পর্যটক বান্ধব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে নানামুখী উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। প্রায় ৫ কিলোমিটার আধাপাকা সড়কে কার্পেটিং, বিদ্যুৎ সংযোগ, কর্টেজ, হার্টিকালচার পার্ক ও পিকনিক স্পট নির্মাণে পরিকল্পনা অনুযায়ী মাস্টারপ্ল্যান প্রস্তুত করা হয়েছে। ডিসি পার্কের প্রবেশদ্বারে গেইট, লেকের পাড়ে ইতোমধ্যে বিশ্রামাগার করা হয়েছে। আরো দুইটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ১ কোটি ১৯ লক্ষাধিক টাকার প্রাক্কলন অনুমোদনে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এছাড়া প্রবেশ পথের পাশে ছোট্ট পরিসরে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্প করার পরিকল্পণাও নেওয়া হয়েছে। এই পর্যটন শিল্পকে ঘিরে পরিকল্পিত মাস্টারপ্লান বাস্তবায়ন হলে খাগড়াছড়ির পর্যটন শিল্পে এটি নতুন চমক হিসেবে ভ্রমণপিপাসু মানুষের নজর কাড়বে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × one =

আরও পড়ুন