মানিকছড়ি বিদ্যুৎ অফিসে জনবল সংকটে ভুতুরে বিলের চাপে গ্রাহকের নাভিশ্বাস

fec-image

৫শ-১ হাজার গ্রাহকের তিন দশক আগের সেই জনবল অবকাঠামোর ৪০% জনবলে মানিকছড়িতে বিদ্যুৎ সেবার নামে প্রতারণা ও ভূতুরে বিলের মাত্রাতিরিক্ত চাপে সাড়ে ৭ হাজার গ্রাহকের নাভিশ্বাস! সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড়।

মানিকছড়ি-লক্ষীছড়ি উপজেলার দুইটি বিদ্যুৎ সাব সেন্টারে বর্তমানে গ্রাহক সাড়ে ৭ হাজার। আর এই গ্রাহক সেবায় জনবল এখনো সেই মান্ধাতামলের! অর্থ্যাৎ ৫শ থেকে ১ হাজার গ্রাহকের যেই জনবল দিয়ে উপজেলায় বিদ্যুতের যাত্রা সেই জনবল থেকেও ৬০% কম জনবলে চলছে বিদ্যুৎ সেবার নামে শুধু প্রতারণা আর ভূতুরে বিলের রমরমা বাণিজ্য!

বর্তমানে দুই উপজেলার সাব সেন্টারে জনবল পদায়ণ আবাসিক প্রকৌশলী ১ জন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী ১ (শুন্য), লাইনম্যান-৩ জনের স্থলে কর্মরত-২ জন, এমএলএসএস কাম গার্ড ৪ জনে কর্মরত ১ জন, অফিস সহকারী ১ জন (শুন্য), নিম্নমান হিসাব সহকারী-১ জন(শুন্য), মিটার রিডার-১ জন। মোট জনবল ১২ এর স্থলে কর্মরত আছে মাত্র ৫ জন! ৫শ থেকে ১ হাজার গ্রাহকের এই জনবল থেকেও ৭ জন শুন্যপদ নিয়ে সাড়ে ৭ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহকের সেবার নামে চলছে এক ধরনের প্রতারণা ও চরম নৈরাজ্যকর অবস্থা! এই বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের মধ্যে ৫ সহস্রাধিক গ্রাহক মানিকছড়িতে।

ফলে প্রতিনিয়ত এখানকার বিদ্যুৎ গ্রাহককে হাজার, হাজার অব্যয়িত ইউনিটের ভূয়া বিল পরিশোধ করতে বাধ্য করা হচ্ছে! এসব ভূতুরে বিলের প্রতিবাদ করতে প্রতিদিন বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহকের ভীড় হলেও পরবর্তী মাস থেকে ধীরে ধীরে সমন্বয়ের আশ্বাসের বাণী ছাড়া কিছুই পাচ্ছেনা গ্রাহকরা!

সাড়ে ৭ হাজার গ্রাহকের জন্য মাত্র ১ জন মিটার রিডার থাকলেও অভাগা গ্রাহকরা কেনই বা ভূতুরে বিলের শিকার হচ্ছেন বিষয়টির সদোত্তর মিলছে কোথাও! আবাসিক, অনাবাসিক ও ব্যবসায়ীরা দিন দিন ফুঁসে উঠছে। ফলে প্রতিনিয়ত গ্রাহকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে প্রতিবাদ মূখর হয়ে উঠছে। অনেকে অকথ্য ভাষায় বিরুপ মন্তব্য করতেও দ্বিধাবোধ করছে না।

এ বিষয়ে বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি রুপেন পাল ভূতুরে বিলের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এখানকার বিদ্যুৎ গ্রাহকরা চরম অমানবিকতার শিকার! গত প্রায় ৪ দশক এখানে ব্যবসা-বাণিজ্য করছি, কিন্তু এখনকার মতো ভোগান্তিতে কখনও পড়তে হয়নি। কম-বেশি প্রতিটি ব্যবসায়ী প্রতিমাসে ব্যবহারের বেশি রিডিং এর বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে! প্রতিবাদেও টনক নড়ছে না বিদ্যুৎ বিভাগের।

আবাসিক প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দীন বলেন, সেকালের ৫শ-১হাজার গ্রাহক সেবার জনবল থেকেও প্রায় ৬০% কম জনবলে দুই উপজেলার গ্রাহকের চাহিদানুযায়ী সেবা দিতে গিয়ে গ্রাহকের জন্য তা কিছুটা ভোগান্তি হয়। হাটহাজারী টু মানিকছড়ি পর্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টিতে প্রায় সময়ই লাইনে গাছ-বাঁশ পড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। ফলে এই দীর্ঘ লাইন সচল করতে অনেক সময় লেগে যায়। এছাড়া ১ জন মিটার রিডার দিয়ে সাড়ে ৭ হাজার বিদ্যুৎ মিটার নিয়মিত রিডিং সংগ্রহ করা সম্ভব না। তারপরও অতিরিক্ত বিল সর্ম্পকে অভিযোগ পাওয়া মাত্র ক্রমান্বয়ে তা সমন্বয় করা হয়। ইচ্ছা করে বিদ্যুৎ নিয়ে গ্রাহককে হয়রানী করার কোন সুযোগ বিদ্যুৎ বিভাগে নেই।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four + three =

আরও পড়ুন