মার্কিন-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তি, দেশীয় অর্থনীতিতে ঝুঁকির আশঙ্কা

fec-image

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একই সাথে দেশীয় অর্থনীতিতে চরম ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি করেছে। প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, এই চুক্তির মাধ্যমে ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যাপক বাণিজ্যিক সুবিধা দিয়েছে।

উইনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেটেটিভ (উইএসটিআর) সম্প্রতি চুক্তিটির বিস্তারিত প্রকাশ করার পর অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ার অন্য কোনো দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এমন শর্তসাপেক্ষ ও একতরফা চুক্তি নেই। এই চুক্তির বিপরীতে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দেড় হাজার পণ্যে আমদানি শুল্ক তুলে নিয়েছে বা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। এতে দেশীয় শিল্প ও উৎপাদন খাত অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সরকার বিপুল পরিমাণ মার্কিন কৃষিপণ্য আমদানি, জ্বালানি (তেল ও গ্যাস) ক্রয়, এবং উড়োজাহাজ আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার আর্থিক মূল্য হাজার হাজার কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এসব প্রতিশ্রুতি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।

ভর্তুকি কমানোর শর্তে সম্মতি চুক্তির আরেকটি বিতর্কিত দিক হলো দেশীয় শিল্প ও কৃষি খাতে ভর্তুকি কমানোর শর্তে বাংলাদেশের সম্মতি। এতে কৃষক, স্থানীয় উদ্যোক্তা ও শিল্পখাত বড় ধরনের ধাক্কা খাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অন্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যে বিধিনিষেধ চুক্তিতে বাংলাদেশ চীন ও রাশিয়াসহ কিছু দেশের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ মেনে নিয়েছে বলে নথিতে উঠে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি বাংলাদেশের স্বাধীন ও বহুমুখী বাণিজ্যনীতিকে সংকুচিত করছে।

রপ্তানি খাতে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর মার্কিন পাল্টা শুল্ক ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে থেকে বিদ্যমান গড়ে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কের সঙ্গে যোগ হয়ে মোট শুল্ক দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ। এর ফলে তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে এবং রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

চুক্তি প্রকাশের পর বিভিন্ন মহল থেকে শ্বেতপত্র প্রকাশ, সংসদীয় আলোচনা এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী শর্ত পুনর্বিবেচনার দাবি উঠেছে। তারা বলছেন, এটি কেবল একটি বাণিজ্য চুক্তি নয় বরং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সরাসরি জড়িত একটি ইস্যু।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: আমেরিকা, বাণিজ্য চুক্তি, বাংলাদেশ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন