ভারতের মিজোরাম রাজ্যের আইজল জেলার সায়রাং থানার অধীনে সায়রাং নামক স্থান থেকে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ইউপিডিএফের তিন আর্মস কালেক্টরকে আটক করেছে দেশটির বিএসএফ ও এসবি সিআইডি। এই সময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
গত রবিবার ( ২৪ মে ) মামিত জেলার দামপা টাইগার রিজার্ভ করিডোর দিয়ে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টাকালে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এবং মিজোরাম পুলিশের সিআইডি স্পেশাল ব্রাঞ্চ তাদের গ্রেপ্তার করে।
আটককৃতদের নাম আপন চাকমা, নিহার রঞ্জন চাকমা এবং মনি কার্বারি চাকমা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য এবং পরবর্তী তল্লাশি অভিযানের ভিত্তিতে, নিরাপত্তা বাহিনী আটক স্থল থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে একটি জঙ্গল এলাকা থেকে লুকিয়ে রাখা ১,৭৯৯ রাউন্ড ৭.৬২ এমএম (7.62 mm) গোলাবারুদ উদ্ধার করে।
আকটকারীদের দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা পরবর্তীতে আরেকটি অভিযান পরিচালনা করেন। এর ফলে পশ্চিম ফাইলেং পুলিশ থানার অধীন সাইথা গ্রাম থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে একটি বন এলাকা থেকে দ্বিতীয় একটি লুকানো চালান উদ্ধার করা হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় চালানটিতে দুটি একে-৪৭ অ্যাসল্ট রাইফেল, দুটি ম্যাগাজিন এবং অতিরিক্ত ১২ রাউন্ড গুলি ছিল।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, তারা সুপরিকল্পিত ভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে প্রথমে সায়রাংয়ের কাছ থেকে গোলাবারুদের চালানটি সংগ্রহ করা এবং তারপর একে-৪৭ রাইফেল সম্বলিত দ্বিতীয় চালানটি উদ্ধারের জন্য ডিটিআর সেক্টরের দিকে এগিয়ে যাওয়া। অস্ত্র ও গোলাবারুদ একত্রিত করার পর, ক্যাডাররা বনাঞ্চল ঘেরা ডিটিআর রুট দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের পরিকল্পনা করেছিল।
মিজোরাম পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে ইউপিডিএফের আটককৃত সদস্যরা প্রকাশ করেছে যে, আইজলে অবস্থানরত ডা. প্রীতি চাকমা নামের এক ব্যক্তি তাদের এই লুকিয়ে রাখা চালানগুলো উদ্ধার এবং বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
সন্দেহভাজনদের বহন করা জিনিসপত্রের বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষায় এমন বেশ কিছু সামগ্রীও পাওয়া গেছে, যেগুলো অস্ত্রের চালান পরিবহন ও গোপন করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হওয়ার জন্য আনা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত জিনিসপত্রের মধ্যে ছিল চালের খালি বস্তা, সাদা-কালো পলিথিনের চাদর, ত্রিপলের আচ্ছাদন, খাদ্যসামগ্রী, বিস্কুট এবং অন্যান্য রেশনের সামগ্রী।
গোয়েন্দাদের ধারণা অনুযায়ী, খালি চালের বস্তা, পলিথিন শিট এবং ত্রিপলগুলো উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ পুনরায় প্যাক করার এবং লুকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল, যাতে দুর্গম জঙ্গল এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে এগুলো গোপনে পরিবহন করা সহজ হয়।
মিজোরাম পুলিশ আরও জানায়, উদ্ধারকৃত মালামাল থেকে ইউপিডিএফ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতিসহ বিদ্রোহী-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো দাম্পা টাইগার রিজার্ভ এলাকার দুর্গম জঙ্গলপথকে গোপনে অস্ত্র পরিবহন, সীমান্ত পারাপারে জঙ্গিদের চলাচল এবং বাংলাদেশ-ভিত্তিক কর্মীদের সঙ্গে সম্ভাব্য সমন্বয়ের জন্য ব্যবহার করার চেষ্টা করেছিল বলেও ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
সূত্র : দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া ও আসাম বার্তা অনলাইন ( ২৫ মে ২০২৬)।
