মিয়ানমার থেকে গুলি করা হচ্ছে, সরকার কোনো কথা বলছে না: মির্জা ফখরুল

fec-image

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের সেন্টমার্টিন এলাকায় গুলি করার ঘটনায় সরকার ‘নির্লিপ্ত’ মন্তব্য করে নিন্দা প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, সেন্টমার্টিনে মিয়ানমার থেকে গুলি হচ্ছে আমাদের দেশের লোক মারাও যাচ্ছে। অথচ দেখা যাচ্ছে, সরকার কোনো কথা বলছে না। এটাকে আমরা তীব্রভাবে কনডেম করি; আমরা মনে করি অবিলম্বে এই ইস্যুতে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত।

রবিবার (১৬ জুন) দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকার নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

সম্প্রতি টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিনের নৌপথে চলাচলকারী কয়েকটি ট্রলারে টানা কয়েকদিন গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ কারণে টানা আট দিন এ নৌপথে যানচলাচল বন্ধ ছিল।

পরে বৃহস্পতিবার বঙ্গোপসাগর দিয়ে বিকল্প পথে সেন্ট মার্টিনে আটকাপড়াদের টেকনাফে নিয়ে আসা হয়। শুক্রবার একটি জাহাজে সেখানে খাদ্যপণ্য পাঠানো হয়।

এই অবস্থার মধ্যেই নাফ নদীর মিয়ানমারের জলসীমায় বুধবার থেকে একটি যুদ্ধজাহাজের দেখা মেলে। এরপর সেখান থেকে প্রতিদিন গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনতে পায় টেকনাফ সীমান্তের বাসিন্দারা। যদিও শনিবার সকাল থেকে সেই জাহাজ আর দেখা যাচ্ছে না, গোলাগুলির শব্দও আর আসছে না।

টেকনাফ সীমান্ত ও সেন্টমার্টিন নিয়ে জাতীয়ভাবে নানা আলোচনা ও আশঙ্কার মধ্যে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিজিবির মহাপরিচালক রোববার ওই এলাকা পরিদর্শন করেন।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, সেন্ট মার্টিনে মিয়ানমারের যে যুদ্ধজাহাজ দেখা যাচ্ছে, এটা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর প্রচণ্ডভাবে হুমকি। দুর্ভাগ্যের কথা হচ্ছে, বর্তমানে যে একটা অনির্বাচিত সরকার আছে যারা দখলদারীর সরকার, জোর করে বসে আছে; এদের কাছে সার্বভৌমত্বের ব্যাপারটা কোনোক্রমেই প্রভাব বিস্তার করছে না। একটা ভিন্ন দেশ থেকে আমার যে পথ… যেটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সেই পথে, মানে সমুদ্রসীমায় সেখানে আমি যাতায়াত করতে পারছি না। অথচ সরকার এখন পর্যন্ত একটা যে স্টেটমেন্ট মিয়ানমারকে দেবে সেটা পর্যন্ত তারা করে নাই।

সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত আসছে, আর তারা দেখছে। এই সরকারের ওপর আমাদের আস্থাটা কি করে থাকবে? দেশের মানুষ তো আশা করে, এই দেশের সার্বভৌমত্ব সরকার রক্ষা করবে; স্বাধীনতা রক্ষা করবে। সেখানে সরকারের কোনো রকম কথাই আমরা শুনতে পাচ্ছি না।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমি মনে করি, এটা একটা নতজানু সরকার। বিদেশের ওপর নির্ভর করে এই সরকার টিকে আছে। যে কারণে একটা কথা বলতে এই সরকার সাহস পায় না।

মির্জা ফখরুল বলেন, সেন্টমার্টিন এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত সরকার নির্ধারণ করবে এবং সেখানে তো জবাব দিতে হবে; একটা স্টেটমেন্টও তো দেয়নি সেখানে সেনাবাহিনী কী মোতায়েন করবে। একটা স্টেটমেন্ট কনডেম করা, আন্তর্জাতিক বিশ্বে তুলে ধরা ভায়োলেট দিস রুলস, বর্ডার মানে বাউন্ডারি নষ্ট করে দিচ্ছে। সেনাবাহিনী ইস্যু তো অনেক পরে আসবে।

বিএনপির নেতৃত্ব পর্যায়ে রদবদল ইস্যুতে দলের মহাসচিব বলেন, আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থবির হয়েছে সরকারের দমন-নীপিড়নের কারণে। তবে এই আন্দোলন আরও তীব্র হবে। আর একটা রাজনৈতিক দলের এই যে পরিবর্তন হয়, কারণ সেই রাজনৈতিক দলকে আরও শক্তিশালী করার জন্যই হয়। আমাদের পদগুলো শূন্য ছিল, অনেকেই মারা গেছেন, কেউ দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। ওই জায়গাগুলো পূরণ করা হয়েছে। আর যাদের নেওয়া হয়েছে তারা তরুণ, আমরা অত্যন্ত আশাবাদী, এই পরিবর্তনের ফলে আমাদের দল আরও বেশি শক্তিশালী হবে।

বেনজীর প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বেনজীর ইস্যু সকলের আই ওপেনার হওয়া উচিত। যে সমস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই দেশে মনে করছেন তারা আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে, লুটপাট করে টিকে থাকতে পারবেন- আলটিমেটলি টিকে থাকা যায় না। আজিজ-বেনজীর তার একটা প্রমাণ। লুট করলে, চুরি করলে, অন্ধের মত একটা অজনপ্রিয় ম্যান্ডেটবিহীন সরকারকে সমর্থন করলে সেখানে টিকে থাকা সম্ভব না। দেখেন ওই সরকারই তাদেরকে বলির পাঠা বানিয়েছে, অথচ তারাই কিন্তু লুটপাটটা করছে।

কোরবানির ঈদ খারাপ যাবে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এখানে মুদ্রাস্ফীতি যেভাবে বেড়েছে, এখানে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। সেটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে কোরবানির পশু যে লোকে কিনতে যাচ্ছে, কিনতে পারছে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে নাগালের বাইরে সমস্ত জিনিষের দাম। ঢাকায় তো পশুর হাটে কোনো লোকই নেই। কেউই কিনতে পারছে না। এটার কারণটাই হচ্ছে, মানুষের আর্থিক অবস্থা চরমভাবে খারাপ হয়েছে।

তিনি বলেন, এই সরকার তো বেসিকালি লুট করে দেশের সমস্ত সম্পদকে বিদেশে পাচার করে দিয়েছে; ব্যাংকগুলো থেকে লুট করে শেষ করে দিয়েছে এবং অর্থনীতিকে চরমভাবে খারাপ অবস্থায় নিয়ে এসেছে। কয়েকদিন আগে আপনারা দেখেছেন দেশের প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদরাও বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ-নাজুক।

এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমীন, অর্থ সম্পাদক শরিফুল ইসলামসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: মিয়ানমার, সেন্টমার্টিন
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন