মিয়ানমারে জান্তা মোকাবিলায় পুলিশ বাহিনী গঠন

fec-image

জাতীয় ঐক্য সরকার (এনইউজি) মিয়ানমারের জান্তা সরকারকে মোকাবিলায় এবার নিজস্ব পুলিশ বাহিনী গঠনের ঘোষণা দিয়েছে । গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুন) এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দেশটিতে জান্তা সরকারের শাসন অবসানে এনইউজির এটা সর্বশেষ উদ্যোগ। খবর রয়টার্সের

গণতন্ত্রপন্থী নেতা অং সান সু চির সরকারকে ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে উৎখাত করে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে সেনাবাহিনী। সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং এই সামরিক অভ্যুত্থানের প্রধান কারিগর। ওই সময় সু চিসহ তাঁর দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিভিন্ন অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছে জান্তা সরকার।

সামরিক অভ্যুত্থানের প্রতিবাদ জানাতে এবং জান্তা সরকারকে রুখতে এনএলডির নির্বাসিত পার্লামেন্ট সদস্য ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতীয় ঐক্য সরকার (এনইউজি) গঠন করা হয়েছে, যেটা মিয়ানমারের ছায়া সরকার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বেশ কিছু দেশ ওই সরকারকে সমর্থনও দিচ্ছে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী তাদের এই প্রতিপক্ষকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

এনইউজির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি পুলিশ বাহিনী গঠন করে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে প্রস্তুত তারা। এক বিবৃতিতে ওই ছায়া সরকার আরও বলেছে, মানবাধিকার লঙ্ঘন, যুদ্ধাপরাধ ও জনগণের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য ‘সন্ত্রাসী সামরিক কাউন্সিলের’ বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াই এই বাহিনীর উদ্দেশ্য।

অবশ্য কবে নাগাদ এবং কীভাবে এই পুলিশ বাহিনী গঠন করা হবে, তা এখনো পরিষ্কার করেনি এনইউজি। এর সদস্যসংখ্যা নিয়েও কোনো মন্তব্য করা হয়নি ওই বিবৃতিতে। গত বছর থেকে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে কার্যক্রম পরিচালনা করতে এবং সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা সুসংহত করার চেষ্টাকে বাধা দিতে অর্থ সংগ্রহে কাজ করছে এনইউজি। এ ছাড়া গত বছর জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই করতে এনইউজির পক্ষ থেকে ‘পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেস’ বা পিডিএফ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

জান্তা সরকারের সেনারা মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামে পিডিএফ সদস্যদের দমনে অভিযান চালিয়েছেন, অনেক স্থানে করেছেন অগ্নিসংযোগ। পিডিএফ সদস্যদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জান্তা সরকার এসব অভিযান চালাচ্ছে। ফলে সেনা অভ্যুত্থানের পর জান্তার সঙ্গে পিডিএফ সদস্যদের সংঘাতের ঘটনা অনেকটাই বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে তাদের দমনের নামে জান্তার নির্যাতন-নিপীড়ন ও প্রাণহানি।

অভ্যুত্থানের পরপর জান্তাবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো মিয়ানমার। বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্য, চলমান সেনাশাসনের অবসান ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, অভ্যুত্থান-পরবতী সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ১ হাজার ৮০০ জনের বেশি নিহত এবং ১৩ হাজারের বেশি মানুষ আটক হয়েছে। ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে দেশটিতে দেখা দিয়েছে চরম মানবিক সংকট। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের পর থেকে যুদ্ধ এবং অস্থিতিশীলতার কারণে সাত লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 − five =

আরও পড়ুন