মিয়ানমারে শান্তি প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের ফেরৎ পাঠানো হবে না: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

fec-image

মিয়ানমারে শান্তি প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের ফেরৎ পাঠানো হবেনা বলে জানিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার।

রোববার(৩০ জুন) সকালে উখিয়ার বালুখালী ১৮ নং ক্যাম্পে সেইভ দ্যা চিলড্রেন এর লার্নিং সেন্টার পরিদর্শনকালে তিনি একথা বলেন। এছাড়া বিকেলে কুতুপালং ডি- ৫ ব্লকে ইউএনএইচসিআরের কার্যালয়ে ২ ঘন্টাব্যাপী রোহিঙ্গা নেতাদের সাথে কথা বলেন।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে আসা ৮ জন পুরুষ ও ৪ জন মহিলার সাথে মিয়ানমারের নির্যাতন নিপীড়ন, হত্যা, ধর্ষণের কথা শোনেন।

রবার্ট মিলার রোহিঙ্গাদের বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদে প্রত্যাবাসন করা হবে। মিয়ানমারে কখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ঠেলে দেওয়া হবে না।

মিয়ানমারের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে রোহিঙ্গা নেতা সিরাজুল মোস্তাফা বলেন, এখন যে সকল রোহিঙ্গা মিয়ানমারে অবস্থান করছেন তারা কোন ক্রমেই বাহিরে অবাধ চলাফেরা করতে পারছে না এমনকি অসুস্থ নারী পুরুষ কোথাও চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে পারছে না।

পরবর্তীতে প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গাদের কাছে জানতে চান কিভাবে মিয়ানমার সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করতে হবে ? প্রতি উত্তরে রোহিঙ্গারা বলে আমরা মিয়ানমারে অনেক বছর যাবৎ বসবাস করে আসছি, তাহলে আমাদের উপর এত অত্যাচার, নির্যাতন কেন? মিয়ানমারে ১৩৫ জনগোষ্ঠী বসবাস করে সবাই মিয়ানমারের নাগরিক, আমাদের রোহিঙ্গাদের কেন নাগরিকত্ব স্বীকৃতি দিবে না। উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ২ শতাধিক রোহিঙ্গা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সামনে নানা রকম ব্যানার, পেস্টুন প্রদর্শন করেন।

ব্যানারে গণতান্ত্রীক বাংলাদেশ সরকার ও ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের প্রতি একান্ত দাবি যাতে তারা ১৯৯২’র তালিকাভুক্ত শরণার্থীদের জন্য সংশোধনী আইন ১৯৬৯, ১৯৬৭, ১৯৫৪, ১৯৫১, ১৯৮৪ এবং ১৯৬১ ধারা অনুসারে গৃহীত আইন বাস্তবায়ন করা হোক।

প্রতিনিধি দলকে রোহিঙ্গা আরো বলেন, বাংলাদেশে আমরা মোটামুটি ভাল আছি। কিন্তু আমরা যদি এখানে বসবাস করি তাহলে শিক্ষা, চিকিৎসা,সহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত হবো। এজন্য রোহিঙ্গা দ্রুত মিয়ানমারে পাঠানোর জন্য আমেরিকা সকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রোহিঙ্গা নেতা রশিদ উল্লাহ, মোহাম্মদ নুর, আবু তাহের, হামিদা বেগম প্রমুখ।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত উখিয়ার মধুর ছড়া ক্যাম্পের ইউএনএইচসিআরের বায়োমেট্টিক কার্যক্রম, কাস্টি ইয়ার্ডের কার্যক্রম সহ একাধিক এনজিও সংস্থার প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন। প্রতিনিধি দলটি বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে কুতুপালং ক্যাম্প ত্যাগ করে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে গমন করেন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three + 2 =

আরও পড়ুন