মিয়ানমারে সাজা ভোগের পর ১২ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ, অপেক্ষায় আরও ১২ জন

fec-image

মিয়ানমারে দুই বছর সাজা ভোগের পর আরও ১২ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। শুক্রবার রাতে তারা টেকনাফের উনচিপ্রাং সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে বলে খবর পাওয়া গেছে। অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা উখিয়ার কুতুপালং মেগা ক্যাম্পে স্বজনদের কাছে আশ্রয় নিয়েছে। এ ধরণের কারামুক্ত অপর ১২ জন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় আছে বলেও জানা গেছে।

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা মেগা ৫নং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার নুরুল আলম ১২ রোহিঙ্গা প্রবেশের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট ঘটনার সময় রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ব্যাপক ধর পাকড় চালিয়েছিল। সে সময় রাখাইনের রাচিডং টাউনশীপের রাজার বিল ইউনিয়নের উপরের পাড়া ও চৌপ্রাং গ্রাম থেকে অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়।

মাস্টার নুরুল আলম রাচিডং টাউনশীপের স্থানীয় প্রভাবশালী। তিনি জানান, গত ১২ অক্টোবর দুই বছর কারা ভোগের পর ৬২ জন রোহিঙ্গাকে মুক্তি দেয়া হয় রাখাইন প্রদেশের রাজধানী সিট্রুয়ের আকিয়াব কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে। কিন্তু রাখাইনের তাদের গ্রাম ও আশপাশে কোন রোহিঙ্গার অবস্থান না থাকায় তারা এ ১২ জন বাংলাদেশের ক্যাম্পে তাদের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে চলে আসে।

ফেরত আসা ইমাম হোসেন (৬০) জানান, আত্মীয় স্বজনরা লোকজন ধরে ক্যাম্প থেকে টাকা পাঠিয়ে আকিয়াব থেকে রাখাইনের কুমিরখালী হয়ে উনচিপ্রাং সীমান্ত দিয়ে শুক্রবার রাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ক্যাম্পে আসে। ১৮ অক্টোবর ৪ জন কারামুক্ত রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়। শুক্রবার অনুপ্রবেশ করা ১২ জন রোহিঙ্গার সকলে কুতুপালং-৫নং ক্যাম্পে তাদের স্বজনদের নিকট আশ্রয় নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির নিকট মিয়ানমারে সাজা শেষে মুক্তিপ্রাপ্ত অন্যান্যদের পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন বলে ওই রোহিঙ্গা নেতা জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্যাম্পের জনৈক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, এধরণের সংবাদ তাদের কাছে নেই।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: উখিয়ার কুতুপালং, মিয়ানমারে, রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × 1 =

আরও পড়ুন