পার্বত্যবাসী বাঙালিদেরকে শাসনতান্ত্রিক সমঅধিকার দিতে হবে: সমঅধিকার আন্দোলন

lokiuj

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

পার্বত্য কালো চুক্তি বাতিল ও ৯দফা দাবীতে বুধবার ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও গণসমাবেশ করে পার্বত্য চট্রগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনির।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি এবং বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা জনাব আবু নাসের মোঃ রহমত উল্লাহ। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সুপ্রীম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের আন্দোলনকারী ছাত্র ও যুব নেতা এ্যাড. মো. আলম খান। সমাবেশে পবিত্র কোরআন তেলোয়াত করেন, ঢাকাস্থ সমঅধিকার আন্দোলন কর্মী খান মজলিস।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সমঅধিকার নারী নেত্রী রোজিনা বেগম, সমঅধিকার ছাত্র আন্দোলন নেতা লোকমান হোসেন ও সমঅধিকার যুব আন্দোলন নেতা এম. সালাউদ্দিন।

প্রধান অতিথি রহমত উল্লাহ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করে আদিবাসী নাম দিয়ে ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব ত্রিমূর ও দক্ষিণ সুদানের মত কৌশলে স্বাধীন জুমল্যান্ড করার চক্রান্ত চলছে। তথাকথিত শান্তি চুক্তির নামে সন্তু লারমাকে পাহাড়ের যাবতীয় ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। বাংলাদেশ একটি এক কেন্দ্রীক ক্ষুদ্র রাষ্ট্র। দেশের এক দশমাংশ ভূমি তথা ৫০৯৩ বর্গমাইল এলাকা নিয়ে গঠিত রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৬ কোটি বাঙালী কিছুতেই পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন হতে দেবে না।

তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনের নেতাকর্মীদেরকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, দেশের অখন্ডতা, স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আপনাদের সাথে বিএনপি, স্বাধীনতা ফোরামসহ সকল জাতীয়তাবাদী শক্তি সমর্থন দিয়ে যাবে।

এ্যাডভোকেট আলম খান বলেন, “১৯৯৭ সালে ২ ডিসেম্বর সরকার জনসংহতি সমিতির সাথে একটি অসম চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী বাঙ্গালিদের সকল জাতীয় মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশে কোন আদিবাসী না থাকা সত্ত্বেও আদিবাসী নাম করে জাতি সংঘ থেকে অনুদান এনে পার্বত্য এলাকার বাঙ্গালিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র-সস্ত্র ক্রয় করে জুমল্যান্ড গঠন করার জন্য চক্রান্ত চলছে। উপজাতি কোটা সরকারি চাকুরী, মেডিক্যাল কলেজ, আইন প্রকৌশলী মেধাবী ছাত্রদের সাথে মিশে তাদের ভুল বুঝিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে জুমল্যান্ড নামে পৃথক রাষ্ট্র গঠনে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে”। সরকার এসব বন্ধ না করলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে বলে এ্যাডভোকেট আলম খান আশংকা প্রকাশ করেন।

সভাপতির ভাষণে সমঅধিকার আন্দোলনের মহাসচিব মনিরুজ্জামান মনির বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে কথা বলার। এ সমস্যা শুধু পার্বত্যবাসী বাঙালিদের নয়। এটি একটি জাতীয় সমস্যা। জাতীয়ভাবেই এই পার্বত্য কালো চুক্তি বাতিলের দাবীকে শানিত ও প্রচারিত করতে হবে। এজন্যই পার্বত্যবাসীর মুক্তির সনদ ৯দফা পেশ করে সমঅধিকার আন্দোলন সকল পর্যায়ে জনমত গড়ে তুলছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen − twelve =

আরও পড়ুন