মুম্বাইয়ে বাড়ছে মুসলিম ও রোহিঙ্গা, হিন্দু ৫৪% এ নামার শঙ্কা


ভারতের মুম্বাই শহরে অবৈধ অভিবাসনের কারণে ধর্মীয় জনসংখ্যার গঠনে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে। বিশেষ করে, বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা অভিবাসীদের আগমনের ফলে মুম্বাইয়ে বাড়ছে মুসলিম জনসংখ্যা, কমছে হিন্দু জনসংখ্যা। মুম্বাইয়ের টাটা ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্সেস (টিআইএসএস)-এর অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্টে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০৫১ সাল নাগাদ মুম্বইয়ে হিন্দু জনসংখ্যা ৫৪ শতাংশের নীচে নেমে যেতে পারে, আর মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশে পৌঁছে যাবে। এই দাবিগুলো মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে ঝড় তুলেছে এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।রিপোর্টটি ‘Illegal immigrants to Mumbai: Analysing socio-economic and political consequences’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে যে, ১৯৬১ সালে মুম্বইয়ে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ৮৮ শতাংশ, যা ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে কমে ৬৬ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে, একই সময়কালে মুসলিম জনসংখ্যা ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২১ শতাংশ হয়েছে।
গবেষকরা এই পরিবর্তনের জন্য মূলত অবৈধ অভিবাসনকে দায়ী করেছেন। তারা দাবি করেন যে, বাংলাদেশ এবং মায়ানমার থেকে আগত মুসলিম অভিবাসীরা শহরের নিম্নমানের চাকরি দখল করছে, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। এছাড়া, এই অভিবাসন শহরের জল, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা পরিষেবার উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, মুম্বইয়ের ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রে অভিবাসীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে উঠেছে, যা ভোটের গতিপ্রকৃতিকে প্রভাবিত করছে। কিছু রাজনৈতিক দল এই অভিবাসীদের ‘ভোট ব্যাঙ্ক’ হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন যে, এই প্রবণতা চলতে থাকলে স্থানীয় মারাঠি সংস্কৃতি এবং পরিচয়ের উপর হুমকি পড়বে।
শহরের ঝুপড়ি এলাকাগুলোতে অবৈধ অভিবাসীদের ভিড় বাড়ার কারণে সম্পদের সংকট তীব্র হচ্ছে এবং সমাজে বিভেদ বাড়ছে।যদিও এই রিপোর্টটি টিআইএসএস-এর মতো প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান থেকে এসেছে, তবু এর কিছু দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিছু বিশেষজ্ঞ এবং ফ্যাক্ট-চেক রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, ২০৫১ সালের অনুমানগুলোতে অসঙ্গতি রয়েছে। রিপোর্টের এক জায়গায় হিন্দু জনসংখ্যা ৫৪ শতাংশের নীচে বলা হয়েছে, আবার অন্য জায়গায় ৬০ শতাংশের কাছাকাছি।
এছাড়া, এই অনুমানগুলো কীভাবে করা হয়েছে, তার বিস্তারিত পদ্ধতি বা তথ্যসূত্র স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। প্রাকৃতিক জন্মহারের পার্থক্য বা অন্যান্য রাজ্য থেকে অভিবাসনের প্রভাবকে পুরোপুরি বিবেচনা করা হয়নি বলে সমালোচনা হয়েছে। রিপোর্টটি মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে প্রকাশিত হওয়ায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
















