লিওনেল মেসি কি টানা দ্বিতীয়বারের মতো আর্জেন্টিনার হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে দিতে যাচ্ছেন? ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে একটি ব্যতিক্রমী সংখ্যাতাত্ত্বিক তত্ত্ব, যা ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
নেটিজেন ও আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের দাবি, মেসির ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ের জার্সি নম্বরের সঙ্গে আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক বড় শিরোপা জয়ের তারিখগুলোর আশ্চর্যজনক মিল রয়েছে। যদিও এটি নিছক কাকতালীয় ঘটনা এবং এর কোনো বাস্তব বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, তবু বিষয়টি ভক্তদের কৌতূহল বাড়িয়েছে।
এই তত্ত্বটি প্রথম আলোচনায় আসে আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার তানো মাজেইয়ের একটি ইনস্টাগ্রাম ভিডিওর মাধ্যমে। সেখানে দেখানো হয়, মেসির বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সির সঙ্গে মিল রয়েছে ২০২১ সালের ১০ জুলাইয়ের। ওই দিন দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ব্রাজিলের মারাকানা স্টেডিয়ামে কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা।
এরপর আসে মেসির ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের ১৮ নম্বর জার্সি। ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। সেই ঐতিহাসিক ম্যাচেই বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করেন মেসি।
এরপর আলোচনায় আসে ১৫ নম্বর জার্সি। ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনাল কলম্বিয়ার বিপক্ষে ১৪ জুলাই শুরু হওয়ার কথা থাকলেও স্টেডিয়ামের বিশৃঙ্খলার কারণে কিক-অফ বিলম্বিত হয়। ম্যাচটি শেষ হতে হতে বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী তারিখ গড়িয়ে ১৫ জুলাই হয়ে যায়। সেদিনও শিরোপা জিতে উৎসব করে আর্জেন্টিনা।
১০, ১৮ ও ১৫—এই তিনটি জার্সি নম্বরের সঙ্গে শিরোপা জয়ের তারিখের মিল পাওয়ার পর এবার আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে ১৯ নম্বর। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আর্জেন্টিনা ও বার্সেলোনার হয়ে ১৯ নম্বর জার্সি পরেও খেলেছেন মেসি। আর ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ১৯ জুলাই, নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।
এ কারণেই আর্জেন্টিনা সমর্থকদের একাংশের বিশ্বাস, যদি আগের তিনটি জার্সি নম্বরের সঙ্গে শিরোপা জয়ের তারিখের মিল সত্যিই কাকতালীয়ভাবে ঘটে থাকে, তাহলে ১৯ জুলাইও কি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে পারে?
অবশ্য এটি সম্পূর্ণ ভক্তদের কল্পনা ও সংখ্যাতত্ত্বভিত্তিক একটি আলোচনা। মাঠের লড়াইয়ে ফল নির্ধারণ করবে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, কৌশল ও ম্যাচের বাস্তবতা। তবু ফুটবলের রোমাঞ্চে এমন কাকতালীয় গল্পই বিশ্বকাপের আবহকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
