ওয়াশিংটন ডিসির একটি হোটেলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপর হওয়া নিরাপত্তা ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ঘটনার পরপরই তিনি স্বস্তি প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট সকলে নিরাপদ ও অক্ষত আছেন। এই ঘটনায় সহিংসতার তীব্র নিন্দা করে মোদী বলেছেন, গণতন্ত্রে হিংসার কোনও স্থান নেই এবং এটিকে অবশ্যই নির্দ্বিধায় প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
শনিবার রাতে ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনার চলাকালীন এই নিরাপত্তা ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ করে ব্যালরুমের বাইরে গুলির শব্দ শোনা যায়। সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা তৎক্ষণাৎ সক্রিয় হয়ে প্রেসিডেন্ট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।
অতিথিরা টেবিলের নিচে লুকিয়ে পড়েন, হলের ভিতরে এক মুহূর্তের জন্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।সূত্র জানায়, একজন সশস্ত্র ব্যক্তি হোটেলের লবি বা নিরাপত্তা চেকপয়েন্টের কাছে গুলি চালায়। তাকে দ্রুত আটক করা হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে এই ঘটনার পর বলেছেন যে, এটি একটি ‘লোন উল্ফ’ আক্রমণ হতে পারে। তবে কেউ আহত হননি বলে জানা গেছে। এটি ট্রাম্পের উপর তৃতীয়বারের মতো এমন ধরনের হুমকি, যা ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকে শুরু হয়েছে।
হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে এমন ঘটনা ঘটায় আমেরিকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ঘটনায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, “ওয়াশিংটন ডিসির হোটেলে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট যে নিরাপদ ও অক্ষত আছেন, তা জেনে আমি স্বস্তি পেয়েছি।
তাঁদের অব্যাহত নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য আমার শুভেচ্ছা রইল। গণতন্ত্রে হিংসার কোনও স্থান নেই এবং এটিকে অবশ্যই নির্দ্বিধায় নিন্দা করতে হবে।”
মোদীর এই বার্তা দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটিয়েছে। ভারত ও আমেরিকার মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব বর্তমানে খুবই শক্তিশালী। দুই নেতার মধ্যে ব্যক্তিগত স্তরের সম্পর্কও উষ্ণ। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এবং এখন দ্বিতীয় মেয়াদে মোদী-ট্রাম্প সম্পর্ক অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহযোগিতা বাড়িয়েছে।
