“কৃষি খাতকে উন্নয়নশীল করতে পার্বত্যাঞ্চলে মৌসুমী ফল সংরক্ষণ ও কৃষকদের স্বার্থে হিমাগার স্থাপন খুবই প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছে।”

মৌসুমী ফলে ভরপুর রাঙামাটি বাজার

fec-image

লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে ফলন ভাল হওয়ায় রাঙামাটির পুরো বাজার এখন মৌসুমী ফলে সয়লাব। এসব ফলের মৌ মৌ গন্ধ বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিদিনে জেলা শহরের ফলের বাজারগুলো জমজমাট। বিকিকিনি ভাল হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটেছে।

বাজারে যেসব ফল পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো হলো- কাঁঠাল, আম, আনারস, লিচু এবং জাম। এসব ফলের চাহিদা অনেক বেশি কিন্তু দাম হাতের নাগালে থাকায় সকল প্রকার ক্রেতা সাধারণ বাড়িতে যাওয়ার সময় এসব ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়- প্রতি কেজি আম বিক্রি করা হচ্ছে ৮০-১০০টাকায়। আনারস বড় জাতের জোড়া প্রতি ৬০টাকা এবং মাঝারী আকারের ৪০টাকা এবং ছোট আকারের ২০টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। কাঁঠাল বড় আকারের পিস প্রতি ২০০-২৫০টাকায়, মাঝারী আকারের ১৫০-২০০টাকায় এবং ছোট আকারের ৭০টাকা থেকে ১৪০টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে। লিচু চায়না ২, চায়না ৩ জাতের মধ্যে বড় আকারের ১০০টি লিচু ১৫০টাকা এবং ছোট আকারের ১০০টি লিচু ১০০টাকায় মিলছে। এছাড়া জাম বিক্রি করা হচ্ছে কেজি প্রতি ১০০টাকায়।

জেলা শহরের কলেজ গেইট ফল বাজারের কাঁঠাল বিক্রেতা মো. ইদ্রিস জানান, এ বছর ভাল এবং উন্নত জাতের কাঁঠাল উৎপাদন হয়েছে। বাজারে কাঁঠালের চাহিদা ব্যাপক। তাই বেচাকেনা বেশ ভাল এবং লাভবানও হচ্ছি।

একই বাজারের আম বিক্রেতা মিজানুর জানান, বাজারের বিভিন্ন জাতের আম পাওয়া যাচ্ছে। তার মধ্যে রেগুয়াই ও আম্রপালির চাহিদা বেশি। আমের চাহিদা দিনদিন বাড়ছে তাই বেচাকেনা করতে পেরে বেশ ভাল লাগছে।

একই বাজারের মৌসুমী ফল কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী ফাওজিয়া আলম জানান, বাচ্চারা মৌসুমী ফল খেতে খুব ভালবাসে। পুষ্টি সমৃদ্ধ এ ফল সারা বছর বাজারে পাওয়া যায় না। তাই মৌসুমী সকল ফল বাচ্চাসহ বাড়ির সকলকে খাওয়ানোর চেষ্টা করছি।

একই বাজারে মৌসুমী ফল কিনতে আসা ব্যবসায়ী আব্দুল সামাদ বলেন, দাম এবং সাধ্যের মধ্যে সহজে এ ফল কেনা যাচ্ছে। তাই বাড়িতে ফিরার পথে কোন না কোন ফল পরিবারের সদস্যদের জন্য কিনে নিয়ে যাচ্ছি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুষ্টিগুণে ভরপুর পাহাড়ে উৎপাদিত এসব ফলের চাহিদা এখন দেশজুড়ে। রপ্তানি হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

রাঙামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য সূত্রে জানা গেছে, এবারের মৌসুমে উপযুক্ত আবহাওয়া থাকায় রাঙামাটিতে আম, কাঁঠাল, আনারস, লিচু এবং জামের তুলনামূলক ভাল ফলন হয়েছে।

রাঙামাটির ১০টি উপজেলা যেমন: রাঙামাটি সদর, নানিয়ারচর, বিলাইছড়ি, কাপ্তাই, কাউখালী, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু, রাজস্থলী এবং বাঘাইছড়ি উপজেলায় এসব ফলের ব্যাপক আবাদ হয়েছে। মৌসুমী ফলের মধ্যে রেগুয়াই ও আম্রপালির জাতের আম, চায়না-২, চায়না-৩, বোম্বে লিচু এবং উন্নত জাতের দেশী কাঠাল, আনারস এবং জাম বাজারে সহজে মিলছে বেশ।

রাঙামাটি জেলায় সাড়ে ১৮হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে লিচু, ৪ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আনারস, ১০হাজার ৮৬৩ হেক্টর জমিতে কাঁঠাল এবং ৩ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ করা হয়েছে।।

রাঙামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পবন কুমার চাকমা জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাঙামাটিতে বিভিন্ন মৌসুমী ফলের ব্যাপক চাষাবাদ হচ্ছে। ফলনও হচ্ছে লক্ষ্যমাত্রার অধিক। বিশেষ করে উন্নত ও আধুনিক চাষাবাদের কারণে পাহাড়ে যে কোন মৌসুমে ফল পাওয়া যাচ্ছে।

এ কৃষিবিদ আরও জানায়, কৃষকরা যদি আরও একটু সচেতন হয়, তাহলে এসব ফল উৎপাদনের ধারা অব্যাহত রাখা সম্ভব।তবে এ সম্ভাবনাময়  এ কৃষি খাতকে উন্নয়নশীল করতে পার্বত্যাঞ্চলে মৌসুমী ফল সংরক্ষণ ও কৃষকদের স্বার্থে হিমাগার স্থাপন খুবই প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: মৌসুমী ফলে, রাঙামাটি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × two =

আরও পড়ুন