“কোন জনপ্রতিনিধি, নেতারা মাদক কারবারিদের আশ্রয়-প্রশয় দিলে বা জনপ্রতিনিধিরা মাদক কারবারে জড়িত থাকলে জনপ্রতিনিধিতো থাকবেনা, আইনের হাত থেকে বাঁচতেও পারবেনা।”

যত বড় ক্ষমতাধর হউক ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত থাকলে ছাড় দেওয়া হবে না

fec-image

মাদক বা ইয়াবা কারবারিরা যতই শক্তিশালী হউক অবশ্যই আইনের আওতায় আসবে। কোন জনপ্রতিনিধি, নেতারা মাদক কারবারিদের আশ্রয়-প্রশয় দিলে বা জনপ্রতিনিধিরা মাদক কারবারে জড়িত থাকলে জনপ্রতিনিধিতো থাকবেনা, আইনের হাত থেকে বাঁচতেও পারবেনা।

বুধবার দুপুরে উপজেলা সদরে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবসের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে  জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রশাসনকে সমাজের যে যার অবস্থান থেকে মাদক কারবারি, পাচারকারী, ব্যবহারকারী সকলের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে।নিরপেক্ষতা বজায় রেখে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, নেতৃত্বশীল সচেতন ব্যক্তিদের তালিকা প্রনয়ন করতে হবে। মসজিদ-মাদ্রাসা, স্কুল কলেজ, গীর্জা, মন্দিরে মাদক বিরোধী সভা সমাবেশ করতে হবে। ক্লাসের সময় অন্তত আধঘন্টা মাদকের কুফল সম্পর্কে বক্তব্য দিতে হবে শিক্ষকদের। বাড়িতে মায়েদের খোঁজ খবর নিতে হবে ছেলেদের।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহজাহান আলী স্বাগত বক্তব্যে বলেছেন মাদকের কুফল থেকে উখিয়া-টেকনাফের আগামীর প্রজন্মকে বাঁচাতে সকল শ্রেণিপেশার মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা চালাতে হবে। প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে।

কক্সবাজারস্থ ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক, লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ বলেন, দেশের ৫ শতাধিক উপজেলার মধ্যে উখিয়া-টেকনাফ আলোচিত-সমালোচিত ইয়াবার কারণে। ইয়াবা নির্মুলে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত জিরো টলারেন্স নিয়ে সীমান্ত এলাকায় জীবনবাজি রেখে কাজ করছে বিজিবি। ইয়াবা -মাদকের কলঙ্ক মুছতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি পরিবার থেকে বাবা-মায়েদের সন্তানের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ড মহল্লায় মাদক বিরোধী কমিটি গঠন করে সামাজিক ভাবে মাদক কারবারিদের বয়কট করতে হবে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আদিবুল ইসলাম বলেন, উখিয়া-টেকনাফ এখন মাদক বিস্তারের ঘাটি। ইয়াবা ব্যবসা এবং রোহিঙ্গা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রশাসন আগের চেয়ে আরো বেশি সতর্ক রয়েছে। জেলায় কোন না কোন দিন ইয়াবা কারবারিদের শায়েস্তা করতে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সারাদেশের ন্যায় উখিয়ায় পুলিশ প্রশাসনের অভিযান আরো বেশি পরিচালিত হবে। ইয়াবা বিস্তার প্রতিরোধ, মাদকে জড়িতদের বিষয়ে সুখবর পাবেন অচিরেই। এটি আমাদের সকলের প্রত্যয় এবং প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উখিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী, জেলা পরিষদ সদস্য আশরাফ জাহান কাজল, উখিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুন নেছা বেবী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাজাপালং ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, হলদিয়া পালং ইউপির চেয়ারম্যান শাহ আলম, উখিয়া প্রেসক্লাব সভাপতি সরওয়ার আলম শাহীন সহ সাংবাদিক, বিভিন্ন শ্রেণিপেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ছাত্র-ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন বক্তব্য শেষে উপস্থিত সকলকে মাদক বিরোধী শপথ বাক্য পাঠ করান।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × four =

আরও পড়ুন