যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালেও এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার ( ২৮ মে ) মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, দুই পক্ষ “খুব কাছাকাছি” থাকলেও চুক্তি এখনো সম্পন্ন হয়নি।
ভ্যান্স জানান, আলোচনায় বিশেষ করে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, ইরানকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন বন্ধ করতে হবে এবং বিদ্যমান মজুত নিষ্পত্তি করতে হবে, যাতে তা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার না হয়।
বিবিসির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান “কখন বা আদৌ” কোনো চুক্তিতে পৌঁছাবে কিনা, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হতে পারে। এছাড়া হরমুজ প্রণালীতে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা, মাইন অপসারণে ইরানকে ৩০ দিন সময় দেওয়া এবং কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে ইরানকে তেল রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।
উভয় পক্ষ একে অপরের দাবি অস্বীকার করেছে এবং প্রস্তাবিত সমঝোতা সম্পর্কে খুব কম তথ্য প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে “বিকল্প বি” পুনরায় সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা এখনও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিকদিনের সংঘর্ষে উভয় পক্ষ একে অপরকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দক্ষিণ ইরানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার কথা জানিয়েছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, কোনো মার্কিন বিমান ভূপাতিত হয়নি।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। তাই এই নৌপথে অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
সূত্র: বিবিসি
