যুক্তরাষ্ট্র থেকে পিএইচডি অর্জন করলেন প্রজ্ঞাতেজ চাকমা

fec-image

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার সন্তান প্রজ্ঞাতেজ চাকমা পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তার পিএইচডি গবেষণা ছিল অর্গানিক আর পলিমার কেমিস্ট্রি।যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সেরা মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি এ সম্মান অর্জন করেন।

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও খাগড়াছড়ি ক্যান্ট. পাবলিক কলেজ থেকে এইচএসসি কৃতিত্বের সাথে পাশ করার পর প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলিত রসায়ন এবং কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন তিনি।

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় বেড়ে উঠে তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট প্রজ্ঞাতেজ চাকমার পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করবেন হয়তো স্বপ্নেও অসম্ভব ছিলো। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে ঢাবিতে চান্স পাওয়া তার কাছে মনে হয়েছিল অনেক কিছু। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে তার পরিবারকে ভারতে আশ্রয় নিতে হয়েছিল শরণার্থী হিসেবে। বাবা-মা দুজনেই শিক্ষিত হওয়ায়, ছোটবেলা থেকে শিক্ষার গুরুত্ব বুঝতেন তিনি।

প্রজ্ঞাতেজ চাকমা বিগত ৫ বছর ধরে এমন পলিমারিক ম্যাটেরিয়াল উদ্ভাবন করার চেষ্টা করেছেন। যেগুলো সহজে রিসাইকেল (recycle) করা যায় এবং সেলফ হিলিং (self-healing).অর্থাৎ এসব ম্যাটেরিয়ালে স্ক্রাচ (scratch) হলে অথবা আঘাত হলে নিজে নিজে এই ম্যাটেরিয়াল ঐ স্ক্রাচ/আঘাত দূর করতে পারবে।

বিগত ৫ বছরে তার ১১টি প্রকাশনা Macromolecules, Macro Letters, Angewandte Chemie, Polymer Chemistry নামক স্বনামধন্য জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। প্রজ্ঞাতেজ চাকমাকে হাই রিসার্চ এক্টিভিটির জন্য ডিপার্টমেন্ট থেকে Dissertation Scholar পুরস্কার দেয়া হয়। যা তার জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।

কিভাবে পিএইচডি করার ক্ষেত্রে অনুপ্রাণিত হলেন জানতে চাইলে ড. প্রজ্ঞাতেজ চাকমা বলেন, “ঢাবিতে ভর্তি হয়ে থার্ড ইয়ারের দিকে অনেক সিনিয়রকে দেশের বাইরে পিএইচডি নিতে দেখে আমিও অনুপ্রাণিত হয়। এছাড়াও আমাদের পাহাড়ি সমাজের কৃতি সন্তান আমেরিকান প্রবাসী ড. মংসানু মারমাও আমার কাছে অনুপ্রেরণার ছিলেন। আর্থিকভাবে আমাদের পরিবার কখনো সচ্ছল ছিলাম না। আমিও হয়তো ঢাবি থেকে অনার্স মাস্টার্স করে বিসিএস অথবা সরকারি চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিতে পারতাম। কিন্তু আমি সংকল্প নিই আমাকে যেকোন উপায়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে একজন বিজ্ঞানী হতে হবে। আমার পরিবারের নাম, আমার সমাজের নাম উজ্জ্বল করতে হবে। আর্থিক অসচ্ছলতার মাঝেও আমার পরিবার যতটুকু সম্ভব আমাকে সাপোর্ট দিয়েছে। আমি আমার এই পিএইচডি ডিগ্রি আমার প্রানপ্রিয় মা-কে উৎসর্গ করতে চাই যিনি ছোটবেলা থেকে নিজের সবকিছু দিয়ে আমাদের তিনভাই বোনকে আগলে রেখেছেন। শত কষ্ট সহ্য করে আমাদের মানুষ করেছেন। আমার মায়ের ত্যাগ ছাড়া এতদূর আসা কখনো সম্ভব ছিলো না।”

জুনিয়র শিক্ষার্থী ও তরুণদের প্রতি ড. প্রজ্ঞাতেজ চাকমা বলেছেন, ” আমি আমাদের পাহাড়ি সমাজের তরুণদের প্রতি বার্তা দিতে চাই তারা যেন শিক্ষার গুরুত্ব বোঝে। আমাদের মতো পিছিয়ে পড়া জাতির জন্য শিক্ষায় হতে পারে টিকে থাকার একমাত্র হাতিয়ার। একটি জাতি যদি শিক্ষিত হয়, সে জাতি কখনো নিশ্চিহ্ন হতে পারে না। উচ্চ শিক্ষার জন্য তথ্য অথবা রিসার্চের যদি প্রয়োজন হয়, আমি আমার সামর্থ্যের সবকিছু দিয়ে চেষ্টা করবো সাহায্য করতে। আমার দরজা সবসময় খোলা থাকবে।“

পিএইচডি অর্জন করার পর ড. প্রজ্ঞাতেজ চাকমা এখন পোস্ট ডক স্কলার হিসেবে বিশ্বের টপ র‍্যাংকড বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনে জয়েন করছেন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

6 + 14 =

আরও পড়ুন