আলমগীর মানিক, রাঙামাটি:
আম গাছের সাথে ঝুলে মহিলাদের শাড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে রাঙামাটি কোতয়ালী থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে রাঙামাটি শহরের কলেজ গেইটস্থ টিটিসি সড়কের মুখ থেকে এই লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার কাকডাকা ভোর থেকেই প্রধান সড়কের পাশে আম গাছের ডালের সাথে কাপড় পেচিঁয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় এক যুবকের লাশ ঝুলে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পরে থানা পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। এসময় লাশের গায়ে কোনো কাপড় ছিলোনা এবং ঝুলন্ত লাশের পা মাটিতে লাগানো অবস্থায় ছিলো। পরনের পেন্টের পকেটের মধ্য থেকে একটি মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পরে খোজঁ নিয়ে জানাগেছে, নিহত যুবকের নাম টমাস বড়ুয়া (১৭)। সে শহরের কালিন্দিপুরের মাধুরী বড়–য়ার সন্তান, তার পিতার নাম বিজ্ঞান বড়ুয়া। তিনি রাউজান উপজেলার আন্ধার মানিক এলাকায় বসবাস করেন। সে রাঙামাটি শহরের কালিন্দিপুরে মা’র সাথে ভাড়া বাসায় বসবাস করতো। নিহত টমাস বড়ুয়ার মাতা মাধুরী বড়ুয়া জানান, টমাসের যখন ৬/৭ মাস বয়স তখন থেকেই তার বাবার কাছ থেকে আলাদা হয়ে আমি রাঙামাটি শহরে চলে আসি। বিভিন্ন জনের বাসায় ঝি’এর কাজ করে আমি তাকে বড় করেছি। কিন্তু কি কারনে সে আত্মহত্যা করলো নাকি অন্য কিছু হয়েছে, তা আমি বলতে পারছিনা। কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি জানান, আমি ঝি এর কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি, কার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিব!
এদিকে রাঙামাটি কোতয়ালী থানা থেকে এসআই বিকাশের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সকাল সাড়ে ছয়টায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট আট নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে খবর দিলে সীমান্তবর্তী নয় নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর টিটুকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন কাউন্সিলর কালায়ন চাকমা। কিন্তু সকাল নয়টা নাগাদ উদ্বর্তন কর্মকর্তা থানা থেকে দেখতে আসবেন এই অযুহাতে গাছ থেকে লাশ না নামানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা। কাউন্সিলরদ্বয় জানালেন, আমাদের কাজ আমরা পুলিশকে করে দিয়েছি কিন্তু তারপরও পুলিশ লাশ নামাতে দেরি করছে কেন বুঝতে পারছিনা।
স্থানীয়দের ক্ষোভের কারন হিসেবে জানাগেছে, সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্যাঞ্চলের বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে এখানে বসবাসরত সকলের মাঝে উদ্বেগ উৎকন্ঠা বিরাজ করছে, আর এই সুযোগটি কাজে লাগাতে পারে একটি স্বার্থানেষী মহল এটাকে আন্দোলনের খোরাক বানাতে পারে এবং ঘটনাস্থলটি রাঙামাটি কারিগরি প্রশিক্ষণ সেন্টারের প্রবেশ মুখে হওয়া এই দৃশ্যটি দেখে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, এজন্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিবর্গ লাশটি নিচে নামিয়ে ফেলতে পুলিশকে বারবার তাগাদা দিলেও উপস্থিত এসআই বিকাশ জানান, ভাই আমি ছোট চাকরি করি, আমার কি দোষ, আমার উদ্বর্তন কর্মকর্তা দেখতে আসবেন তাই লাশটি নামাতে একটু দেরি হচ্ছে।
পরে কোতয়ালী থানার ওসি তদন্ত ঘটনাস্থলে আসার আরো আধা ঘন্টা পরে আম গাছ থেকে ঝুলন্ত যুবকের লাশ নিচে নামিয়ে হাসপাতালে প্রেরণ করে পুলিশ।
এদিকে টমাস বড়–য়া’র মৃত্যুর খবর শুনে সাবেক সিভিল সার্জন সুপ্রীয় বড়–য়ার নেতৃত্বে তার বাসায় যান রাঙামাটি বড়–য়া কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ।
