রাঙামাটিতে ধর্ষণ চেষ্টার মামলায় ৮ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা

fec-image

রাঙামাটির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল ধর্ষণ চেষ্টার মামলার রায়ে আসামীকে শহীদ মল্লিককে (৫৮) ৮ বছরের সশ্রম কারাদান্ড ও ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে। আজ সোমবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতম দমন ট্রাইবুনাল এর বিচারক এ, ই, এম ইসমাইল হোসেন এই রায় দেন।

জানা যায়, নানিয়াচর উপজেলার বুড়িঘাট ইউনিয়নের বগাছড়ি এলাকায় আসামী শহীদ মল্লিক ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কয়েকদিন ধরে ভিকটিম দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে উত্যক্ত করত এবং শাররীকভাবে যৌন নিপীড়ন করার চেষ্টা চালায়। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে অভিযুক্ত ঘটনার কথা স্বীকার করে এবং ভবিষ্যতে এধরণের কাজ করবে না বলে ক্ষমা প্রার্থণা করে।

এরপর গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ইং তারিখে ভিকটিমের বাবা থানায় মামলা করে, পরে আসামীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দীর্ঘ এক বছরেরও অধিক সময় ধরে শুনানী, তদন্ত ও ডিএনএ টেষ্টে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামীকে ৮ বছরের জেল ও ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা করেন। একই সাথে ডিএনএ পরীক্ষায় গাফেলতি করায় ডিএনএ পরীক্ষক সৌরভ দে সরকার এর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দেয়া হয়।

রায়ের রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করলেও আসামী পক্ষের আইনজীবি উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানান। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি এডভোকেট রফিকুল ইসলাম জানান, আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ ঘটনাটি প্রমাণ করতে পারায় বিজ্ঞ আদালত আসামীকে ৮ বছরের সশ্রম কারাদান্ড ও ৩ লক্ষ টাকা জরিমান করেন। একই সাথে আদালত ডিএনএ টেষ্টে দায়িত্বে গাফিলতি করায় সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষক সৌরভ দে সরকার এর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দেয়া হয়।

তিনি আরও জানান, আদালত ৬০ দিনের মধ্যে জরিমানার টাকা পরিশোধের জন্য নির্দেশ দেন, যদি জরিমানার টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হন তাহলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ১৬ ধারা মোতাবেক আসামীর মালিকানাধীন স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে বিক্রয়লব্দ টাকা আদালতে জমা দিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। উক্তরুপ অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা হলে তা মামলার ভিকটিম এর পিতা মাতা তাদের সন্তানের ক্ষতিপূরণ হিসাবে প্রাপ্য হবেন।

আসামী পক্ষের আইনজীবি এডভোকেট মামুন ভূঁইয়া বলেন, এই রায়ে আমরা সংক্ষুব্দ, আমরা ন্যায় বিচার পায়নি। যেহেতু ডিএনএ রিপোর্টের সাথে আমাদের ম্যাচ ছিলো না এবং রাষ্ট্রপক্ষ যে সমস্ত স্বাক্ষী উপস্থাপন করেছেন তারা কেউই প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী ছিলেন না। রাষ্ট্রপক্ষ ডিএনএ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে, আমরা ন্যায় বিচার পায়নি। আমরা উচ্চ আদালতে যাবো, আশা করি সেখানে ন্যায় বিচার পাবো।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen − sixteen =

আরও পড়ুন