রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব পরিষদের অভিষেক ও প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত

‘আমার পাহাড়, আমার জীবন’ ও ‘যুগে যুগে তারুণ্যের শক্তি, ঘরে তুলবে পার্বত্য ভূমির মুক্তি’ এই স্লোগানে রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব পরিষদের ১০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে রাঙামাটি প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মাওলানা মো. নুর হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ পিসিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজম।
পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফছার রনির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোরশেদা আক্তার, নাগরিক পরিষদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. সাব্বির আহমদ, নাগরিক পরিষদের রাঙামাটি জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির, যুব পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল গফুর বাদশা, ছাত্র পরিষদের রাঙামাটি জেলা সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পিসিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমান বলেন, কোটাভিত্তিক অগ্রাধিকার পেয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতিরা এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু, একই পরিবেশে জন্মে পার্বত্য বাঙালিরা পিছিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রে সর্বদিক থেকে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী হচ্ছে পাহাড়ের বাঙালিরা। সরকার কিংবা রাষ্ট্র উপজাতিদের প্রতি সহানুভূতিশীল, তাতে আমার বিন্দুমাত্র আপত্তি নাই। আমি বলব না যে, উপজাতিদের সুবিধা থেকে কেটে পার্বত্য বাঙালিদের সুবিধা দিতে হবে। বরং আমার কথা হলো, সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে বাঙালিদের তাদের প্রাপ্য সুযোগটুকু দিতে অসুবিধা কোথায়? বাস্তব ক্ষেত্রে একই অবস্থানে থেকে একই পরিবেশের একটি পক্ষকে উন্নত করে আরেকটি পক্ষকে দমিয়ে রাখা অত্যন্ত দুঃখজনক।
পাহাড়ের জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃস্থানীয় সকল পদ উপজাতিদের দখলে, সরকারি চাকরির উপজাতিদের দখলে, দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুযোগ-সুবিধা উপজাতিদের দখলে, দেশি-বিদেশি দাতা সংস্থাদের সাহায্য সহযোগিতা উপজাতিদের জন্য। তাই এ প্রশ্ন ওঠা খুব স্বাভাবিক, পার্বত্য বাঙালিরা কি রাষ্ট্রের নাগরিক নয়?
পার্বত্য বাঙালিরা পার্বত্য চট্টগ্রামে দেশের মানচিত্রের পাহারাদার। দেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্বেও পাহাড়ে বাঙালিদের অস্তিত্ব ছিল। কিন্তু পার্বত্য বাঙালিদের সর্ব দিক হতে পিছিয়ে রাখা হচ্ছে কেন?
সর্বশেষ কথা হলো, এই বৈষম্যের শেষ কোথায়? পাহাড়ের বাঙালিরাও তো মানুষ, তাদেরও তো আত্মবিকাশের অধিকার রয়েছে। অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশে পার্বত্য বাঙালিদের সাম্প্রদায়িক তকমা দিয়ে আর কতকাল পিছিয়ে রাখা হবে?
বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সব জাতিগোষ্ঠীর সাংবিধানিক সংরক্ষণে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ, মহিলা পরিষদ, ছাত্র পরিষদসহ নাগরিক পরিষদের স্থায়ী কমিটি ও কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

















