parbattanews

রাঙামাটির দাঙ্গা নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন: ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার

Rangamati- pci01
ফাতেমা জান্নাত মুমু:
১০ জানুয়ারি মেডিকেল কলেজের পাঠদান কার্যক্রম উদ্বোধন ঘিরে রাঙামাটিতে সৃষ্ট অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা তদন্তে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। ৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি এর মধ্যে তদন্ত কাজ শুরু করেছে।

এদিকে ঘটনার চারদিন পর বুধবার থেকে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে শহরে। সার্বিক পরিস্থিতির ওপর ফিরে এসেছে স্বাভাবিক অবস্থা। তবে জনমনে এখনও চাপা আতংক রয়ে গেছে। অজানা শংকায় শহরবাসী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় চারদিন পর বুধবার সকাল ১১টার পর থেকে শহরে জারি করা ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করে নিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে ভবিষ্যতে যাতে ঘটনার কোনো কিছুর পুনরাবৃত্তি ঘটতে না পারে সেজন্য প্রশাসন কড়া নজরদারিতে।

জেলা প্রশাসক মো. শামসুল আরেফিন বলেন, সম্প্রতি রাঙামাটিতে যে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির উদ্ভব হয় তা গত কয়েক দিন ধরে শহরব্যাপী ভয়াবহ আকারে রুপ নেয়- যা একেবারে আয়ত্বের বাইরে চলে যায়। কিন্তু সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় আমরা তার উত্তরণ ঘটাতে পেরেছি। এতে দলমত, গোত্র, সম্প্রদায়, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সর্বশ্রেণী ও সর্বজনগোষ্ঠীর শান্তিপ্রিয় মানুষ প্রশাসনকে সহায়তা করেছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃংখলা বাহিনী অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। সংবাদ মিডিয়ায় কর্মরত সংবাদকর্মীরা সব সময় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছেন।

বুধবার বিকাল চারটায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় শহরে উদ্ভূত পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য সর্বমহলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। পরিবেশে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসায় শহরে জারি করা ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে যাতে আর অনাকাক্সিক্ষত কোনো কিছুই ঘটতে না পারে সেজন্য প্রশাসন কঠোর অবস্থানে। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি নির্দেশ দেয়া আছে প্রয়োজনে আইনের সর্বশক্তি যাতে প্রয়োগ করা হয় কোনো দ্বিধা-দ্বন্ধ না করে। তিনি আইনশৃংখলা রক্ষায় ভবিষ্যতে যে কোনো মুহূর্তে সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মোস্তফা জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তানভীর আজম ছিদ্দিকীসহ অন্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক মো. শামসুল আরেফিন দৃঢ়তার সঙ্গে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত পুরোপুরি আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। সবার আন্তরিক সহযোগিতা থাকলে আশংকার তেমন আর কিছুই থাকবে না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তানভীর আজম ছিদ্দিকীর নেতৃত্বে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটির অপর ২ সদস্য হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সিআর পাল ও জেলা সমবায় কর্মকর্তা মঙ্গল কুমার চাকমা। কমিটি এর মধ্যে তদন্ত কাজ শুরু করেছে। কমিটিকে প্রথম কার্যদিবস থেকে দশ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, ১০ জানুয়ারি রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের পাঠদান কার্যক্রম উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনায় শহরে ব্যাপক আকারে পাহাড়ি-বাঙালি উত্তেজনা ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওইদিন শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। কিন্তু এরপরও ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে পরদিন ১১ জানুয়ারি থেকে শহরের বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষ ও উত্তেজনা ভয়াবহ আকারে ছড়াতে থাকে। ওইসব ঘটনায় কম্পক্ষে ৫০ আহত হয়।

Exit mobile version