parbattanews

রাঙামাটি আসনে কে হবেন বিজয়ী

পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আমেজের কিছুটা ভাটা পড়েছিল। সাধারণ মানুষ পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর মাঝে নির্বাচন নিয়ে তেমন একটা আগ্রহ দেখা যায়নি।

বিপ্লব-পরবর্তী কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী নেই রাঙামাটি আসনে। এছাড়াও পাহাড়ের প্রভাব বিস্তারকারী আঞ্চলিক সংগঠন সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) এ নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েও নিজেদের কৌশলগত কারণে এ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। যে কারণে রাঙামাটি আসনে নির্বাচনের ঢেউ লাগেনি।

জামায়াত রাঙামাটিতে শক্তিশালী অবস্থান সৃষ্টি করতে পারলেও জোটের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে সংগঠনটি তাদের প্রার্থীকে প্রত্যাহার করে নেয়। এ আসনে বড় রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান বর্তমানে অসম যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন।

রাঙামাটি আসনে বিএনপির পাশাপাশি আরও পাঁচটি রাজনৈতিক দল তাদের প্রার্থী দিয়েছেন। তারা হলেন, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের আবু বক্কর সিদ্দিক, জাতীয় পার্টির প্রার্থী অশোক দেওয়ান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী জুঁই চাকমা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জাসিম উদ্দিন, গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী এম এ বাশার বাদশা। এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন পহেল চাকমা।

অতীতে রাঙামাটি  আসনে পাঁচবার আওয়ামী লীগ, একবার বিএনপি এবং একবার আঞ্চলিক সংগঠন সন্তু লারমার পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি বিজয়ী হয়েছিল। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও সন্তু লারমার পিসিজেএসএস না থাকায় বড় সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে বিএনপি।

বিএনপির প্রার্থী দীপেন দেওয়ান তাদের দলীয় নেতা-কর্মী-সমর্থকদের ভোটের পাশাপাশি কৌশলগতভাবে সন্তু লারমার পিসিজেএসএস-সমর্থিত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ভোটগুলো পাবেন বলে একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

যে কারণে পাহাড়ের আরও একটি প্রভাবশালী শান্তিচুক্তিবিরোধী আঞ্চলিক স্বশস্ত্র সংগঠন প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) বেজায় চটে গিয়ে তাদের দলের পক্ষে অফিসিয়াল ঘোষণা দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা পহেল চাকমাকে জোর সমর্থন দিয়েছেন। স্থানীয় সংগঠনটি তিন পার্বত্য জেলায় (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান) বিএনপির প্রার্থীদের ভোট না দিতে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে নিরুৎসাহিত করছে।

রাঙামাটি আসনটিতে জামায়াত তাদের প্রার্থী না দেওয়ায় বিএনপি ছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক দলের তেমন কোনো প্রভাব নেই। সঙ্গত কারণে নির্বাচনী যুদ্ধটি মূলত গড়িয়েছে বিএনপির প্রার্থী দীপেন দেওয়ান এবং ইউপিডিএফ-সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমার মধ্যে। তবে বলে রাখা ভালো, রাঙামাটিতে ইউপিডিএফের তেমন কোনো প্রভাব না থাকায় বিএনপির প্রার্থী সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে।

ছয় হাজার ১১৬ দশমিক ১৩ বর্গকিলোমিটারের পার্বত্য জেলা রাঙামাটি ১০ উপজেলা, ৫০টি ইউনিয়ন এবং দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার পাঁচ লাখ ৯ হাজার ২৬৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে দুই লাখ ৬৩ হাজার ৪১০ জন এবং নারী ভোটার রয়েছে দুই লাখ ৪৫ হাজার ৮৫৫ জন।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে রাঙামাটি আসনে ৫২ শতাংশ পাহাড়ি এবং ৪৮ শতাংশ বাঙালি ভোট রয়েছে। এর মধ্যে আবার সংখ্যালঘু (হিন্দু, বড়ুয়া জনগোষ্ঠী) ভোটার রয়েছে ১০ শতাংশ। এ নির্বাচনে বিএনপি ২৯৯ আসনটি পেতে মরিয়া। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমাও ছাড়ার পাত্র নন।

ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান বলেন, তিনি নির্বাচনে জিততে পারলে অত্র অঞ্চলে পাহাড়ি-বাঙালি জনগণের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন এবং উন্নয়নের জন্য আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের সমন্বয় করবেন।

কোদাল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী জুঁই চাকমা বলেন, তিনি নির্বাচনে জিততে পারলে পরিচ্ছন্ন রাঙামাটি গড়ে তুলবেন। পাশাপাশি নিজ জেলাকে ঘুষমুক্ত, বেকারমুক্ত করবেন এবং গ্রাম তথা তৃণমূল থেকে অর্থনৈতিক উন্নয়নভিত্তিক অঞ্চল গড়ে তুলবেন।

লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী অশোক তালুকদার বলেন, তিনি নির্বাচনে জয়ী হলে রাঙামাটি শহরকে আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলবেন। হামলা-মামলামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করবেন এবং হেডম্যান-কার্বারিদের উন্নয়ন করবেন বলে জানান।

গণ অধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এম এ বাশার বলেন, মডেল রাঙামাটি শহর গড়ে তোলা এবং পাহাড়ি-বাঙালি জনগণের মধ্যে সম্প্রীতি গড়ে তোলা হবে।

Exit mobile version