রাঙামাটি যুবলীগ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না হলে গণহারে পদত্যাগ

fec-image

রাঙামাটি পৌর যুবলীগের অধীন ৮নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির উদ্দীন বলেছেন, দলীয় নিয়ম বহির্ভূত, অন্যায় ভাবে আমাকে দলে থেকে যে ভাবে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না করলে আমার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে দল থেকে গণ পদত্যাগ করবো।

বুধবার (২২জানুয়ারি) দুপুরে রাঙামাটি রিপোটার্স ইউনিটির কার্যালয়ে সংবাদ সন্মেলনের মাধ্যমে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, রাঙামাটি শহরের বনবিভাগের সড়কের সামনে ফুটপাতে জায়গা দখল করে অবৈধভাবে গড়ে উঠা দোকানপাট থেকে রাঙামাটি জেলা যুবলীগের প্রভাবশালী নেতার ভাই। তার ব্যবসায়ী পার্টনার এবং এক ছাত্রলীগ নেতা মাসিক চাঁদা আদায় করে। ওই স্থানে তারও একটি দোকান আছে।

তিনি ওইসব নেতাদের মাসিক চাঁদা দিতে আপত্তি করায় তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের আঙ্গুল তুলে দলীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে অন্যায় ভাবে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বলে অভিযোগ করেন।

নাসির জানান, তাকে বহিস্কারে সংগঠনের গঠনতন্ত্রের নিয়ম না মেনে গায়ের জোরে বহিস্কারের করেন পৌর যুবলীগের সভাপতি আব্দুল ওয়াহাব খান শিবলু।

যুবলীগের এ নেতা আরও জানান, তিনি কোনভাবে চাঁদাবাজির সাথে জড়িত নয়। তার রাজনৈতিক জীবনে কলঙ্কিত করতে এবং পরিবারকে হেয় করতে আব্দুল ওয়াহাব এককভাবে এ কাজটি করেছেন। আগামী সাতদিনের মধ্যে তার পদ ফিরিয়ে না দিলে তার ওয়ার্ডে যুবলীগ নেতৃবৃন্দ সংগঠন থেকে গণহারে পদত্যাগ করবে বলে হুঁশিয়ারী দেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ৮ নং ওয়ার্ড শ্রমিক লীগ সভাপতি মো. আবছার, ৮ নং ওয়ার্ড যুবলীগের ক্রীড়া সম্পাদক আতাউর রহমান, ত্রাণ সম্পাদক রতন গোমেজ, ৮ নং ওয়ার্ড কৃষকলীগের সভাপতি মাহাবুবসহ তার সমর্থক অন্যান্য নেতা-কর্মীবৃন্দ।

এ বিষয় রাঙামাটি পৌর যুবলীগের সভাপতি আব্দুল ওয়াহাব খান শিবলু বলেন, পৌর যুবলীগের কাছে নাসিরের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দেয় ব্যবসায়ীরা। অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেছে বলে তাকে বহিস্কার করা হয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুসারে স্থায়ী বহিষ্কার করতে পারেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা সভাপতির অনুমতিক্রমে বহিস্কার করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ কাজল জানান, আমি শুনেছি একটি চাঁদাবাজির অভিযোগের কারনে ৮নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নাছিরকে বহিস্কার করা হয়েছে। কিন্তু গঠনতন্ত্র অনুসারে কেন তাকে নোটিশ দেয়া হয়নি বা তার পদ সাময়িক স্থগিত না করে কেন বহিস্কার করা হয়েছে সেটি আমরা তদন্ত করে দেখব।

তিনি আরো বলেন, বহিষ্কারের বিষয়টি আমরা পত্রিকা বা সামাজিক মাধ্যমে দেখলেও আমার কাছে কোন নোটিশ আসেনি।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eleven − five =

আরও পড়ুন