অতিরিক্ত মানুষ উঠলেই কম্পন

রাজবন বিহারে ফুট ব্রীজে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মানুষ

fec-image

বৌদ্ধ ধর্মীয় তীর্থস্থান রাজবন বিহারে যাতায়াতের কে.কে রায়স্থ ফুট ব্রীজ পারাপারে জনসাধারণের সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। সম্প্রতি ধর্মপ্রাণ মানুষজন ব্রীজটির উপর দিয়ে যাতায়াতের সময় কম্পন অনুভুত হচ্ছে বলে জানা গেছে। ফলে বিহার পরিচালনা কমিটি ব্রীজটির উপর দিয়ে অতিরিক্ত মানুষের যাতায়াতের সময় বিপদ এড়াতে নিয়ম বেঁধে দেয়া প্রয়োজন বলে দাবি জানিয়েছেন পূর্ণ্যার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সম্প্রতি রাজ বন বিহারে হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং সাধনানন্দ মহাস্থবীর (বনভান্তে)র ১০১তম জন্ম বাষির্কী পালন অনুষ্ঠানে দেশ বিদেশের বিভিন্ন ধর্মপ্রাণ মানুষ অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। পরে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান শেষে স্ব-স্ব গন্তব্যে ফেরার সময় ফুট ব্রীজটির উপর অতিরিক্ত জনসাধারনের ভারে কম্পন অনুভুত হয়। এতে জনসাধারণ ভয়ে ব্রীজটি পারাপার হচ্ছে। এছাড়াও ব্রীজের উপর দিয়ে স্থানীয় সিএনজিগুলো পারাপার হচ্ছে যা ঝুঁকি আরো বেড়ে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরাও জানিয়েছেন ফুট ব্রীজটি হেঁটে পার হওয়ার সময় শত শত মানুষ একসাথে যাওয়ার কারণে এ কম্পনটি অনুভুত হয়। সেই সাথে সিএনজিও পারাপার হচ্ছে। তাই একটু অসাবধানতার কারণে যে কোন মূহুর্তে বিপদও ঘটে যেতে পারে।

ধর্মপ্রাণ মানুষ ও দর্শণার্থীরাও জানিয়েছেন, বিহার পরিচালনা কমিটি ফুট ব্রীজের পারাপারে নিয়ম বেঁধে দেয়া প্রয়োজন। এখানে শুধু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরাই আসছেন না। দেশেী বিদেশী পর্যটকসহ প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীর মানুষ এই বৌদ্ধ তীর্থ স্থানে পূণ্য লাভের আশাতেও আসছেন।

ফুট ব্রীজটি থাকার কারনে মানুষের উপকার হয়েছে কিন্ত তার রক্ষণাবেক্ষণেও সকলকেই সজাগ থাকা প্রয়োজন। তাই বিহার পরিচালনা কমিটিসহ ধর্মপ্রাণ মানুষ ফুট ব্রীজটি পারাপারের সময় দলাদলি না করে ধীরে ধীরে এবং স্বল্পসংক্ষক হয়ে ব্রীজ পারাপার হলে বিপদ এড়ানো যাবে। কোন অবস্থানে সিএনজি পারাপার করতে দেয়া যাবে না।

রাঙ্গামাটি রাজবন বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমীয় কান্তি খীসা বলেন, বিহারে বেশি মানুষের আগমন ঘটলে এই ফুট ব্রীজটি কম্পন শুরু হয়। এই সমস্যাটি দীর্ঘদিন ধরে চলছে। যার কারণে বিহারে কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠান হলে পূর্ণ্যার্থী ও দর্শণার্থীদের সাবধানে পারাপার করার জন্য সর্তকতা অবলম্বন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, এই ফুট ব্রীজটি ২০০২ সালে মাঝারি শহর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প থেকে এশীয় ব্যাংকের অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × two =

আরও পড়ুন