রাজস্থলীতে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে গলাকেটে হত্যা: ১৫ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি ঘাতক

fec-image

রাঙামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার ৩নং বাঙালহালিয়া ধলিয়া মুসলিম পাড়ার রিজিয়া আক্তার রুপা (২০) নামের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর গলা কাটা লাশ উদ্বারের ঘটনার ১৫ দিন পার হলেও হত্যাকারীরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিহতের পরিবার হতাশ হয়ে পড়েছে।

পুলিশ এই হত্যার উদ্দেশ্য উদঘাটন করতে পারেনি। হত্যা মামলাটির তদন্ত করছেন বান্দরবান সদর থানা। তদন্তকারী অফিসার গোবিন্দ জানান, রাজস্থলী উপজেলার বাঙালহালিয়া এলাকার কাজল হোসেন নামক এক যুবক ঘটনায় জরিত। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

গত ৭ আগস্ট রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বান্দরবান সদর উপজেলার, বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কের গলাচিপা মুসলিম পাড়া এলাকা থেকে রিজিয়া আক্তার রুপাকে গলাকাটা অবস্থায় তার মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রুপা রাঙামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার ৩নং বাঙালহালিয়া ইউনিয়নের ধলিয়া মুসলিম পাড়ার নুরুল ইসলামের মেয়ে। চলতি বছর জানুয়ারীর শেষের দিকে চন্দ্রঘোনা খন্দাকাটা গ্রামের মৃত আবদুল লতিফের ছেলে হায়দার আলীর সাথে বিয়ে হয় রুপার। তিনি ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় গত ৮ আগস্ট বান্দরবান সদর থানায় নিহতের বাবা নুরুল ইসলাম হত্যা মামলা করেন। এতে আসামি করা হয় বাঙালহালিয়া ডাক বাংলা বিহার পাড়ার রকির ( রক্যার) ছেলে কাজল হোসেন ও পিতা রকিকে।

রুপার পরিবারের দাবি, হায়দার আলীর সাথে বিয়ে হওয়ার আগে আসমি কাজলের সাথে রুপার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ে না দেওয়ায় কাজল রুপাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নির্জন গভীর জঙ্গলে পরিকল্পিতভাবে জবাই করে হত্যা করে।

নিহত রুপার স্বামী হায়দার আলী জানান, আমার স্ত্রী রুপা চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। মামলার ১৫ দিন অতিবাহিত হলে ও ঘাতক কাজলকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে হত্যার উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা হউক। রুপার চাচা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আনোয়ার সওদাগর বলেন, যত দ্রুত সম্ভব পুলিশ কাজল ও তার বাবাকে গ্রেপ্তার করুক। আমরা তাদের কঠিন শাস্তির দাবি করছি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বান্দরবান সদর থানার এস আই গোবিন্দর সাথে টেলিফোনে আলাপকালে তিনি জানান, রুপা হত্যায় কারা জরিত ছিল সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মামলার এজাহার ভুক্ত আসামিদ্বয় কাজল হোসেন ও তার পিতা রবি কে গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা চলছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × three =

আরও পড়ুন