রাজস্থলীতে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের চরম সংকট, আতঙ্কে ভুক্তভোগীরা

fec-image

রাঙামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার সরকারি হাসপাতাল ও বেসরকারি ফার্মেসিগুলোতে জীবনরক্ষাকারী জলাতঙ্ক প্রতিরোধী (রেবিস ভিসি হিউম্যান) ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই বিভিন্ন বয়সের মানুষ কুকুর, বিড়াল, ইঁদুর ও বন্য প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালে ছুটে আসলেও টিকা না থাকায় হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

অনেকে বাইরে ফার্মেসি থেকে ভ্যাকসিন কিনতে গেলেও সরবরাহ না থাকায় খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

চিকিৎসকরা জানান, জলাতঙ্কের নাম শুনলেই মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে, কারণ এটি একটি প্রাণঘাতী রোগ। জলাতঙ্ক আক্রান্ত প্রাণীর কামড়ের পর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ভ্যাকসিন না নিলে মৃত্যু অনিবার্য। কুকুর, বিড়াল বা বন্য প্রাণীর কামড়ের শিকার হলে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য একমাত্র নিরাপদ উপায় হলো দ্রুত ভ্যাকসিন গ্রহণ করা।

ভুক্তভোগীরা জানান, চিকিৎসকেরা কুকুর ও বিড়ালের আক্রমণের শিকার ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিতে গেলে নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির ভ্যাকসিনের নাম লিখে দেন এবং ফার্মেসি থেকে ভ্যাকসিন কেনার পরামর্শ দেন। রোগী ও তাদের স্বজনেরা জীবন রক্ষার জন্য ভ্যাকসিনের সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় ছুটে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু উপজেলার কোনো ফার্মেসিতেই ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না।

রাঙামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কুকুর ও বিড়ালের আক্রমণের শিকার রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এ কারণে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের চাহিদাও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় গত দুই বছর ধরে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন উপজেলার কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন করে ভ্যাকসিন আসার কথা থাকলেও বাস্তবে তা আসছে না। ফলে প্রতিদিনই রোগীর ভিড় বাড়ছে।

একজন ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির এমআর বলেন, সাপ্লাই না থাকায় আমরা ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে পারছি না। প্রায় দুই বছর ধরে ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকায় ওষুধের দোকানগুলোতে আমরা ভ্যাকসিন দিতে পারছি না।

রাজস্থলী উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের খান এন্টারপ্রাইজের একজন কর্মচারী বলেন, “আমাকে একটি বিড়াল আঁচড় দিয়েছিল। হাসপাতালে গেলে আমাকে পাঁচটি ভ্যাকসিন নেওয়ার কথা বলা হয়। আমি প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছি, কিন্তু তৃতীয় ডোজ নেওয়ার সময় আর ভ্যাকসিন পাইনি। রাজস্থলীতে না পেয়ে রাঙামাটি জেলা সদরেও খুঁজেছি, সেখানেও পাইনি। পরে চট্টগ্রাম শহর থেকে কিনে এনে ভ্যাকসিন নিয়েছি।”

রাজস্থলী হাসপাতালের পরিচালক ডা. নওশাদ খান বলেন, “বর্তমানে হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের কোনো সরবরাহ নেই। আমরা চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। সরবরাহ পাওয়া মাত্রই রোগীদের দেওয়া হবে।”

রাঙামাটি জেলা সিভিল সার্জন ডা. নুয়েন খীসা বলেন, 'আগে হাসপাতালগুলোতে যে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহ হতো, তা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। প্রতিটি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চাহিদাপত্র সংগ্রহ করে অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই এই সংকট কেটে যাবে।'

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন