রাঙ্গামাটি রাজস্থলী উপজেলায় ১৪ সরকারি দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তা নেই। এসব প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন কর্মচারীরা ও ভারপ্রাপ্ত দিয়ে। অপর দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার না থাকায় চরম বিপাকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সেবাপ্রার্থীরা।
প্রয়োজনীয় সেবা নিতে গিয়ে কর্মকর্তার অভাবে কার্য সম্পাদন সম্ভব হচ্ছে না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে।
জানা যায়,রাজস্থলী উপজেলার প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমবায় অফিস, মৎস্য অফিস, পশু সম্পদ, পরিসংখ্যান অফিস,জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআর ডিবি, ট্রেজারী, এল জিডির প্রকৌশলী ,সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারি প্রধান শিক্ষক,রিসোর্স অফিসার, আইসিটি, উপজেলার প্রধান পদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন কার্যালয়ের দপ্তর চলছে কেবল কর্মচারী দিয়ে। যেখানে প্রত্যেকটি দপ্তরে একজন কর্মকর্তা থাকার কথা, সেখানে ওইসব প্রতিষ্ঠানের সবগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। কোনো কোনো দপ্তরে ৯-১০ বছর ধরে কর্মকর্তার পদ শূন্য।
নিয়োজিত একজন কর্মচারী ছুটিতে বা দাপ্তরিক কাজে বাইরে গেলে তখন অফিস তালা দিয়ে যেতে হয়। ফলে প্রায় সময় সেবাপ্রার্থী লোকজনকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে উপস্থিতি ছাড়াই ফিরতে হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
তারা জানান, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নেই ৪ বছর। মৎস্য কর্মকর্তা নেই ২ বছর। পরিসংখ্যান কর্মকর্তা নেই ৭/৮বছর। এভাবেই দিনের পর দিন চলছে রাজস্থলীর উপজেলার সরকারি দপ্তরগুলো।
রাজস্থলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাষ্টার খলিলুর রহমান শেখ সহ ভুক্তভোগী সেবাপ্রার্থীরা জানান, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় এলাকার জনগণের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। ভারপ্রাপ্ত ইউএনও রায়হানুল ইসলাম বলেন, আমি নিজেই ভারপ্রাপ্ত তবে রাজস্থলী উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে কর্মকর্তা পদায়ন না হওয়ায় জনবহুল ওই এলাকায় মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। দ্রুত সময়ে কর্মকর্তা পদায়ন হলে মানুষের কষ্ট লাঘব হবে। সেখানে মূলত কর্মকর্তাদের আবাসনের সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে। এরপরও বিষয়গুলোর দ্রুত সমাধান বা উত্তরণ হওয়া দরকার। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আবারও কথা বলে দ্রুত সময়ে পদ শূন্য থাকা দপ্তরগুলোতে কর্মকর্তা পদায়নের বিষয়টি জানানো হবে।
