রাজস্থলীতে ৪ বছর ধরে কাঠ ব্যবসা বন্ধে বড় ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা

fec-image

পার্বত্য রাঙামাটির রাজস্থলীর অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি হচ্ছে কাঠ ব্যবসা।এই ব্যবসার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় কয়েক হাজার মানুষ।কিন্তু বিগত প্রায়  ৪ বছর ধরে উক্ত কাঠের অন্যতম প্রতিষ্ঠান উপজেলার রাজস্থলীর গাইন্দ্যা ও ঘিলাছড়ি  ইউনিয়নে বন্ধ রয়েছে কাঠ ব্যবসা।

উক্ত ব্যবসার সাথে জড়িত কাঠ ব্যবসায়ী সুত্র থেকে জানা যায়, রাজস্থলী উপজেলার বৈধ জোট পারমিটের মাধ্যমে কর্তন করে মজুদকৃত ১ লক্ষ ৫০ হাজার  ঘনফুট সেগুনসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান কাঠ যার বাজার মূল্য প্রায় ২০কোটি টাকার অধিক। দীর্ঘ  চার বছর ধরে খোলা আকাশের নীচে রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হতে যাচ্ছে কাঠগুলো। উপজেলার  বিভিন্ন জায়গায় গাছের স্টক দেখা গেছে।

এতে করে  রাজস্থলী উপজেলায় জোট মালিক সংশ্লিষ্ট কাঠ ব্যবসায়ী, এর সঙ্গে জড়িত সাধারণ মানুষ এবং খেটে খাওয়া দিন মজুর চরম আর্থিক দৈন্য দশায় অভাব অনটনের কারনে ছেলে-মেয়ের লেখা পড়া নিয়ে এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে বছরের পর বছর পাড় করছে।

৪ বছর অপেক্ষা করে কোন উপায়ন্তর না দেখে বন্ধ হওয়া কাঠ  ব্যবসা চালুকরণের জন্য  ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাবি জানান সরকারের নিকট।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বোমাং সার্কেলের অধীনে  রাজস্থলী উপজেলায় রয়েছে মোট ৯টি মৌজা। এর মধ্যে ৯টি মৌজায় জোট পারমিটের কাজ অর্থাৎ কাঠ ব্যবসা কোন অদৃশ্য কারনে বিগত ৪ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে।অথচ বাকী সব  জেলার, যেমন  খাগড়াছড়ি,বান্দরবান, রাঙামাটির মৌজাগুলিতে জোত পারমিটের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা বলেছেন।

কাপ্তাই পাল্প উড বাগান বিভাগের  অধীন বন বিভাগ কর্তৃপক্ষ সেই ২০১৬/১৭ সাল থেকে বিভিন্ন সময় সম্পূর্ণ বৈধ প্রক্রিয়ায় মোট ১০১টি ফ্রি জোট পারমিট ইস্যু করেছিল। সেই পারমিটের অনূকুলে এবং বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, উপজেলা প্রশাসনের সকল নিয়ম অনুসরন করে এসব মজুদকৃত কাঠ বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন জোট ভূমি থেকে কেটে সড়ক পথে এনে ২ নং গাইন্দ্যা ঝুলন্ত ব্রীজ সংলগ্ন কুঠির শিল্প এলাকায় মজুদ করা হয়েছিল।

এসব মজুদকৃত কাঠের মধ্যে রয়েছে-সেগুন, গামার ও কড়ই। এসব কাঠ দীর্ঘ ৪ বছর ধরে খোলা আকাশের নীচে থাকায় বর্তমানে অর্ধেক অংশের বেশী রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে পঁচে নষ্ট হয়ে গেছে,সম্প্রতি সরেজমিনে তদন্তে গিয়ে এ বাস্তব চিত্র  চোখে পড়ে । ফলে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে তেমন জোত মালিকরা তাদের কাঠ বাজারজাত করতে পারছে না ।

এখানে  সাধারণ জনগনের প্রশ্ন থাকে যে, কোন অজ্ঞাত কারনে  এসব বৈধভাবে সংগৃহীত কাঠগুলি পরিবহণ ও বাজারজাত করনে সংশ্লিষ্ট কাঠ ব্যবসায়ীদেরকে অনুমতি দিচ্ছেনা।

যার কারনে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী পাহাড়ী-বাঙালী যারা জড়িত রয়েছেন তারা কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করার পর মজুদকৃত কাঠগুলি সঠিক সময়ে পরিবহণ ও বাজারজাত করতে না পেরে বর্তমানে পথের ভিখারি হওয়ার পথে বসেছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কাঠ ব্যবসায়ীগণ ।

রাজস্থলী  কাঠ ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির  সভাপতি  ও উপজেলা চেয়ারম্যান উবাচ মারমা বলেন,  অজ্ঞাত কারণে রাজস্থলী উপজেলার কাঠ ব্যবসা বন্ধ রয়েছে।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক  মিঠুল দে জানান, সম্পূর্ন বৈধ কাগজপত্রের মাধ্যমে এসব কাঠ স্টক করা হয়েছিল। কিন্তু  কি কারণে দীর্ঘ ৪ বছর  ধরে ব্যবসা বন্ধ রয়েছে তা অজানা। যার ফলে কাঠ ব্যবসা বন্ধ থাকায় এবং মজুদকৃত কাঠ গুলি পরিবহণ ও বাজারজাত করতে না পারায় আজ দিনমজুর থেকে শুরু করে  এলাকার সকল  অসহায় মানুষ অনাহারে অর্ধাহারে দিন যাপন করছে।

অবিলম্বে রাজস্থলী  উপজেলায় কাঠ ব্যবসা চালু করার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানান ।
কাপ্তাই পাল্প উড বাগান বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম  এর কাছ থেকে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সবে মাত্র যোগদান করছি। বিষয়টি আমার অবগত নই।  অপর দিকে আমি অসুস্থ, যদি সুস্থ হয় তাহলে কাঠ ব্যবসায়ীদের নিয়ে বসব। যদি  বৈধ পন্থায় কাঠ  বিক্রি করা না হয়। তাহলে কাঠ চোরাকারবারীরা আরও সক্রিয় হয়ে উঠবে।এতে কোন সন্দেহ নেই।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen − eleven =

আরও পড়ুন