রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়ায় বন্যা পরিস্থিতি ও ভূমিধস মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করতে সেনাবাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ মাঠে নেমেছেন।
ইতোমধ্যে বাঙ্গালহালিয়া ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
বুধবার ( ৮ জুলাই) কাপ্তাই ৩৮ বীর রণজয়ী কাপ্তাই জোনের জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল কাদির শুভ-এর নির্দেশনায় বাঙ্গালহালিয়া ক্যাম্পের ক্যাম্প অধিনায়ক মেজর মো. এস. আরেফিন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আদোমং মারমা, বাজার কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, শিমুল মেম্বার, মহিলা সদস্য বাপ্পি দে এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে মেজর মো. এস. আরেফিন বলেন, উপজেলা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে সেনাসদস্যরা নিরলসভাবে উদ্ধার তৎপরতা, জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম, চিকিৎসাসহায়তা এবং বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বাত্মক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
এ ছাড়া সেনাবাহিনীর অন্যান্য ফরমেশনও নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীর এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, টানা বৃষ্টিতে রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া এলাকায় সড়ক, গ্রাম ও বাজার ডুবে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। বাজার ও গ্রামের পাশের পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বাঙ্গালহালিয়া ক্যাম্পের ক্যাম্প অধিনায়কের সার্বিক সহযোগিতায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ডাকবাংলা পাড়া বাজারের ওপর দিয়ে প্রবল স্রোত বয়ে যাচ্ছে।
বাঙ্গালহালিয়ায় ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ডাকবাংলা পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে গেছে।
গতকাল থেকে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসন মাইকিং করছে। উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে এরই মধ্যে ৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
