রাজাখালী ওয়াকফ এস্টেটের মৎস্য প্রজেক্টে র‍্যাবের অভিযানে অস্ত্রসহ আটক ১

fec-image

কক্সবাজারের পেকুয়ার রাজাখালী ওয়াকফ এস্টেটের মৎস্য প্রজেক্টের বাসায় অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ নেজাম উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে।

সে রাজাখালী ইউনিয়নের উলুদিয়া পাড়া এলাকার গ্রাম সর্দার মুখলেজুর রহমানের পুত্র।

১৯ জুলাই ভোর ৪টায় রাজাখালী ওয়াকফ এস্টেটের মৎস্য প্রজেক্টের বাসায় র‍্যাব ৭ এর একটি আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ৩টি থ্রি কোয়ার্টার গান, ২ টি এলজি, ১১ রাউন্ড গুলি কার্তুজ, ১টি চাপাতি এবং ১টি রামদাসহ নৈশ প্রহরী নেজাম উদ্দিনকে আটক করে।

এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন সে ষড়যন্ত্রের শিকার। সে রাজাখালী মৌলভী পাড়া স্টেশনে চায়ের দোকানের ব্যবসা করেন। রাতে ওই মৎস্য প্রজেক্টের নৈশপ্রহরী হিসেবে দেখভাল করতেন। তার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত থানায় ও কোর্টে কোন ধরনের অভিযোগ ও মামলা নেই। এলাকার কিছু কুচক্রী মহলের ইন্ধনে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে তাকে।

স্থানীয় সাইফুল ইসলাম বলেন সে সহজ সরল একজন ব্যবসায়ী। সে এ ঘটনায় সম্পূর্ণ নির্দোষ। তাকে অহেতুকভাবে ফাঁসানো হয়েছে। আমরা তার সুষ্ঠু নিরপেক্ষ বিচার দাবি করছি।

আটক নেজাম উদ্দিনের স্ত্রী নুরুনাহার কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার স্বামী অস্ত্রের বিষয়ে কোন কিছু জানেন না।

সে রাজাখালী ওয়াকফ এস্টেটের মৎস্য প্রজেক্টের দেখভাল করতেন। কারো ইন্ধনে তাকে অস্ত্র দিয়ে মামলার বেড়া জালে ফাঁসানো হয়েছে। আমার স্বামী নিরপক্ষ বলে আমি দাবি করছি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ছৈয়দ নুর বলেন, নেজাম উদ্দিন একজন নিরপেক্ষ লোক। সে কোন ধরনের অপরাধ জগৎ এর সাথে জড়িত নাই। তাকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু নিরপেক্ষ বিচার দাবি করছি।

এদিকে র‍্যাব-৭ এর পক্ষ থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে যে, কক্সবাজার জেলার পেকুয়া থানাধীন রাজাখালী ইউনিয়নের সুন্দরীপাড়া এস্টেটের মালিকনাধীন মৎস প্রজেক্ট এলাকায় কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করতেছে।

অভিযান পরিচালনা করলে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে একজন ব্যক্তি দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে র‌্যাব সদস্যরা নেজামকে আটক করে। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে আটককৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে তার দেখানো ও নিজ হাতে বের করে দেওয়ামতে একটি বস্তার ভিতর হতে ০৩টি থ্রি কোয়ার্টার গান, ০২টি এলজি, ১১ রাউন্ড গুলি কার্তুজ, ০১টি চাপাতি এবং ০১টি রামদা উদ্ধারসহ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায় যে, সে দীর্ঘদিন যাবৎ কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয়সহ নিজে ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

এ প্রসঙ্গে পেকুয়া থানার ওসি তদন্ত কানন সরকার জানান, র‍্যাব উদ্ধারকৃত অস্ত্রসহ ধৃত নেজাম উদ্দিনকে পেকুয়া থানায় হস্তান্তর করছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen − nine =

আরও পড়ুন