রাতের আঁধারে শঙ্খ নদীর বালু পাচারের অভিযোগ


বান্দরবানের থানচি উপজেলায় শঙ্খ নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু এক বছর ধরে থানচি কলেজের পাশেই স্তুপ করে রাখা হয়েছে। গত শুক্রবার থেকে রাতের আঁধারে চারটি ট্রাকে করে ওই বালু পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী একটি চক্র প্রশাসনের একটি অংশকে ‘ম্যানেজ’ করে সন্ধ্যার পর বালু ট্রাকে করে পাচার করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর শঙ্খ নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করে থানচি কলেজের পাশের একটি খোলা স্থানে স্তুপ করে রাখা হয়। দিনের বেলায় কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় বালু বোঝাইয়ের মহোৎসব। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর তিন থেকে চারটি ট্রাকে বালু ভর্তি করে গভীর রাত পর্যন্ত পাচার করা হচ্ছে।
রাতভর চলা ট্রাকের বিকট শব্দে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন থানচি কলেজ হোস্টেলের শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি বিজ্ঞানী মংসানু পাড়া এলাকার প্রায় ১০০ পরিবার এবং ইউনিয়ন পরিষদের ২০টি ভাড়াটিয়া পরিবার শব্দ দূষণের কারণে রাতের ঘুম হারাচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে ট্রাকচালক মো. সেলিম ও আবদুল রফিক এর সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলা জেএসএস নেতা ক্রাপ্রুঅং মারমা, বিএনপি নেতা চনুমং মারমা এবং হ্লাচিং মারমা তাদের গাড়ি ভাড়া করেছেন। তারা বলেন, ‘আমরা ইউএনওর বাসভবনের পাশের থানচি-লিটক্রে সড়ক হয়ে বংকো পাড়ায় বালু নিয়ে যাই। আমাদের চারটি গাড়ি টানা চার দিন ধরে কাজ করছে’।
স্থানীয় বাসিন্দা ইয়হ্লাচিং মারমা (৬৫) বলেন, “গত শুক্রবার থেকে আমরা ঘুমাতে পারছি না। আমার নাতি-নাতনিরাও ঘুম না হওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অর্থের অভাবে হাসপাতালে নিতে পারছি না।”
থানচি কলেজের শিক্ষার্থী মেসাইনু মারমা ও রিংচয়ন ম্রো বলেন, ‘শব্দ দূষণে আমাদের কান ভারী হয়ে গেছে। রাতে ঘুমাতে না পারায় দিনে ক্লাস করতে আমাদের সমস্যা হয়।
মংসানু পাড়া ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, অব্যাহত শব্দ দূষণের ফলে শিশুদের মধ্যে মাথাব্যথা, ঘুমের সমস্যা ও মানসিক অস্থিরতাসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিচ্ছে। অনেক শিশু আতঙ্কে রাতে ঘুমাতে পারছে না বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ক্রাপ্রুঅং মারমা, চনুমং মারমা ও হ্লাচিং মারমা বলেন, “গত বছরে তোলা বালু বিক্রি করতে না পারায় এ বছর বিক্রি করছি। লিটক্রে সড়কের আবদুল রহিম কোম্পানির কাছে বালু বিক্রি করেছি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখের সামনেই অবৈধ বালুর স্তুপ ও রাতের ট্রাক চলাচল অব্যাহত থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বরং প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই একটি প্রভাবশালী চক্র এই অবৈধ বালু ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-ফয়সালের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীরা দ্রুত অবৈধ বালুর স্তুপ অপসারণ, রাতের ট্রাক চলাচল বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

















