আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। এর মধ্য দিয়ে অবসান হবে দীর্ঘ ছয় বছরের প্রতীক্ষার।
আগামীকাল ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ চলবে। আটটি কেন্দ্রে মোট ৮১০টি বুথে ভোট হবে। একজন ভোটার সর্বোচ্চ ৮ মিনিট সময় পাবেন। বিকাল ৪টার মধ্যে ভোট কেন্দ্রের আঙিনায় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে পারবেন।
এ নির্বাচন যেমন তোলপাড় সৃষ্টি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে, তেমনিভাবে সারা দেশের মানুষ উৎসুক হয়ে তাকিয়ে আছে ডাকসু নির্বাচনের দিকে। ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভিপি পদে এবারের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। সহসভাপতির (ভিপি) শীর্ষ এই পদে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলের আবিদুল ইসলাম খান, ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের সাদিক কায়েম ও স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্যের উমামা ফাতেমার ..মধ্যেই মূল লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারাই ভোটারদের কাছে প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
অনেকেই ধারণা করছেন, ভিপি ছাড়া জিএস পদে তীব্র প্রতিযোগিতা হবে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলের তানভীর বারী হামিম, ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের এস এম ফরহাদ, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের প্যানেলের আবু বাকের মজুমদারের মধ্যে। এ ছাড়া এ জি এস পদে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলের তানভীর আল হাদী মায়েদ, ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের মুহিউদ্দীন খান ভোটারদের কাছে এগিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ডাকসুতে ভোট গণনায় ব্যবহার হবে স্ক্যানিং মেশিন। দ্রুততম সময়ে ফল প্রকাশ করা হবে। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ভোটের দিনে নিয়মিত শিডিউলের বাইরে অতিরিক্ত বাস চলাচল করবে ক্যাম্পাসে।
নির্বাচনে অনিয়মের আশঙ্কা, ১০ দফা শিক্ষক নেটওয়ারর্কের : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন ঘিরে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার আশঙ্কা প্রকাশ করে ১০ দফা দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। গতকাল দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সদস্যরা এসব দাবি উত্থাপন করে। তাদের দাবিগুলো হচ্ছে- প্রবেশপথ বন্ধ না করে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে এবং কারা প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করবে তা প্রকাশ করতে হবে; নারী শিক্ষার্থীদের পরিচয় যাচাইয়ে নারী শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করা; পোলিং অফিসার নিয়োগে স্বচ্ছতা; ভোট গ্রহণের সময় বিকাল ৫টা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা; পোলিং এজেন্টদের ভিতরে থাকার সুযোগ নিশ্চিত করা; গণমাধ্যমকর্মী ও পোলিং এজেন্টদের জন্য গাইডলাইন প্রকাশ করা; বুথের বাইরে লাইন ব্যবস্থাপনায় শিক্ষক ও অফিসার নিয়োগ; গুজব বা ভুয়া তথ্য ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ; পর্যবেক্ষক ও এজেন্টদের জন্য বিশ্রাম কক্ষের ব্যবস্থা করা এবং অস্বচ্ছতার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে জবাবদিহি করতে হবে।

