টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে কক্সবাজার শহরে পাহাড়ধসে রোজিনা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) রাতে সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কলাতলী ঝিরঝিরি পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, রাতের খাবারের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন রোজিনা আক্তার। বাড়িতে অতিথি আসায় আয়োজনও ছিল বেশ। এদিকে প্রয়োজনীয় কিছু বাজারসামগ্রী কিনতে স্বামী মুজিবুর রহমান সন্তানদের নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন।
রাত ৯টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। মুহূর্তের মধ্যেই বাড়ির পেছনের পাহাড় ধসে পড়ে সরাসরি রান্নাঘরের ওপর। বিশাল পরিমাণ মাটি, কাদা ও বাঁশঝাড় একসঙ্গে নেমে এসে রান্নাঘরটি সম্পূর্ণ মাটিচাপা পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই আটকা পড়েন রোজিনা আক্তার।
বিকট শব্দ শুনে অতিথিরা দ্রুত রান্নাঘরের দিকে ছুটে গিয়ে দেখেন, পুরো রান্নাঘর মাটির নিচে চাপা পড়ে গেছে। তারা রোজিনাকে আর দেখতে না পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। কিন্তু বিপুল পরিমাণ মাটি ও ধ্বংসস্তূপ সরানো সম্ভব না হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।
সংবাদ পেয়ে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি উদ্ধারকারী ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দুই ঘণ্টা ধরে মাটি সরানোর পর রোজিনা আক্তারকে উদ্ধার করেন। উদ্ধার শেষে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজারের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ আলম বলেন, দীর্ঘসময় মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকায় তিনি শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারেননি। তাই তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
রোজিনা আক্তারের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বামী ও সন্তানদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
প্রতিবেশী ও স্বজনরা জানান, খাবার প্রস্তুত করতে গিয়ে এভাবে প্রাণ হারাবেন এমন মর্মান্তিক পরিণতি কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত পদক্ষেপ নিচ্ছে।
