রামুতে বাঁকখালী নদীর তীব্র ভাঙ্গনে সড়ক ও জনবসতি

fec-image

কক্সবাজারের রামুতে কয়েকটি স্পটে বাঁকখালী নদীতে ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এসব স্পটে নদী ভাঙনে বিলীন হতে চলেছে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বসতি।

বিশেষ করে রামুর রাজারকুল ইউনিয়নের শিকলঘাট ও পূর্ব রাজারকুলে চলতি বর্ষা মৌসুমে নদী গর্ভে তলিয়ে গেছে বসত ভিটা। ঝূঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এলাকার চলাচলের একমাত্র সড়ক।

এখানে সহসা ভাঙ্গন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বিলীন হতে পারে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আশপাশের অসংখ্য বসত বাড়ি।

রাজারকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুফিজুর রহমান জানিয়েছেন-চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে রাজারকুল ইউনিয়নের নাশিরকুল ও আশপাশের এলাকায় নদী ভাঙন তীব্র আকার শুরু হয়েছে। ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন তৎপরতা না থাকায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

মুফিজুর রহমান আরো জানিয়েছেন- কয়েক বছর ওই স্থানে নদী ভাঙনের কারণে চলাচলের সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে। সম্প্রতি ওই স্থানে বাঁকখালী নদীতে চলমান নদী শাসন প্রকল্পের আওতায় অপরিকল্পিত ড্রেজিং করার কারণে নদী ভাঙন আরো তীব্র হতে শুরু করে।

যে কারণে সড়ক সহ এখন আশপাশের জনবসতি হুমকীর মুখে পড়েছে। অবিলম্বে নদী ভাঙ্গন রোধে সিসি ব্লক স্থাপন সহ কার্যকর উদ্যোগ না নিলে অপূরনীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।

রাজারকুল ইউনিয়নের পূর্ব রাজারকুল নাশিরকুল গ্রামের বাসিন্দা ফোরকান আহমদ প্রকাশ ফরোখ জানান-স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে-নাতিদের নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন এখানে বসবাস করছেন।

চলতি বর্ষা মৌসুমে তার বসত ভিটের গাছপালাসহ অধিকাংশ জমি নদী গর্ভে তলিয়ে গেছে। এভাবে ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে যে কোন মূহুর্তে তার বসত ঘরটি নদীতে তলিয়ে যাবে।

এ নিয়ে তিনি এখন আতংকে রয়েছেন। বসবাসের একমাত্র সম্বল এ ঘরটি রক্ষায় তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

একই ইউনিয়নের নাশিরকুল গ্রামের বাসিন্দা মোকতার আহমদ, জাফর আলম, দিলদার আলম, বশির আহমদ জানিয়েছেন- তাদের বাড়ির পার্শ্ববর্তী শিকলঘাট-পূর্ব রাজারকুল সড়ক সংলগ্ন বাকখালী নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ অংশটি এমনিতেই ছিলো ঝুঁকিপূর্ণ।

কয়েকমাস ধরে ঝূঁকিপূর্ণ স্থানে এলাকাবাসীর বাধা উপেক্ষা করে নদী ড্রেজিং করায় চলাচলের একমাত্র সড়কসহ ও তাদের শতাধিক বসত বাড়ি তলিয়ে যাওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। অতিদ্রুত এখানে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে যে কোন মূহুর্তে সড়কের বিশাল অংশ নদী গর্ভে তলিয়ে যেতে পারে।

রামুর লম্বরীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হাফেজ মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুর জানিয়েছেন-এ গ্রামে বাঁকখালী নদীর উপর নির্মাণাধিন রেল সেতুর পশ্চিম পাশে কয়েক বছর তীব্র নদী ভাঙ্গন চলছে।

এলাকাবাসীর জোরালো আবেদন সত্ত্বেও এখানে ভাঙ্গন রোধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এলাকাবাসী অবিলম্বে এখানে ভাঙ্গন রোধে সিসি ব্লক স্থাপনের দাবি জানিয়েছে।

রামু উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারি প্রকৌশলী আলা উদ্দিন খান জানিয়েছেন- শিকলঘাট হতে পূর্ব রাজারকুল সড়কের নাশিরকুল এলাকায় বাঁকখালী নদীর ভাঙ্গনে এলজিইডি নির্মিত সড়কটি বর্তমানে খুবই ঝূঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার লক্ষ্যে বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী জানিয়েছেন- রামুর বিভিন্ন স্পটে নদী ভাঙ্গনে ঝূঁকিপূর্ণ সড়ক ও বসতি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল জানিয়েছেন-সম্প্রতি তিনি রাজারকুলে নদী ভাঙ্গনে ঝূঁকিপূর্ণ জনবসতি ও সড়ক পরিদর্শন করেছেন। চলাচলের সড়কটি বিলীন হলে বিকল্প সড়ক করাও কষ্টসাধ্য হবে। তাই জনস্বার্থে সহসা ভাঙ্গন রোধে কার্যকর প্রদক্ষেপ নেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: এলজিইডি, বর্ষা মৌসুম, রামু
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × two =

আরও পড়ুন