রাষ্ট্র মেরামতের ঐতিহাসিক যাত্রায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নিলেন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবারই প্রথম নির্বাচনী লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়ে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের মাধ্যমে সরকার গঠনের ইতিহাস গড়লেন তিনি।
৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন মা মরহুমা খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর ৯ জানুয়ারি তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হন। নেতৃত্ব দেন দলের নির্বাচনী প্রচার ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশবাসীর আস্থা ও ভালোবাসায় বিএনপি অর্জন করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা।
দীর্ঘ দুই দশক পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারে ফেরে বিএনপি। জীবনের প্রথম জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি ও তাঁর দল ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেন এবং রাষ্ট্র মেরামতের ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু করেন তারেক রহমান।
দুরদর্শী রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও নিজ যোগ্যতায় দেশ এবং একই সাথে বিশ্ব রাজনীতিতে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন তারেক রহমান। একজন সফল সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সন্তান হয়েও নিজেকে সাধারণ মানুষের কাতারে শামিল করেছেন অসাধারণ চিন্তা-চেতনায়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারেক রহমানের এই অবিস্মরণীয় উত্থান কেবল দেশ নয়, নজর কেড়েছে বিশ্ববাসীর। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতির প্রথাগত বলয় ভেঙে সূচনা করে চলছেন একের পর এক অনন্য সাধারণ ও উন্নত রাজনীতির সুন্দর সংস্কৃতি। যা স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর থেকে অনুকরণ করছেন দেশীয় রাজনীতির অন্য নেতারাও।
পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গণমুখী রাজনৈতিক আদর্শে অনুপ্রাণীত হয়ে নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে রাজনীতিতে যুক্ত হন তারেক রহমান। সক্রিয় হয়ে ওঠেন ঐতিহ্যবাহী দল বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে। ভূমিকা রাখেন দল পুনর্গঠন, সাংগঠনিক বিস্তার এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে।
নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় মা বেগম খালেদা জিয়া পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আসনগুলোর সমন্বয় ও তদারকির দায়িত্বে ছিলেন তারেক রহমান। ওই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তিনি দলীয় রাজনীতিতে কার্যকরভাবে সক্রিয় হন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমান বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আরো দৃশ্যমান হয়ে ওঠেন।
২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ২০০২ সালের ২২ জুন দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারেক রহমানকে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই দায়িত্বের মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে অন্তর্ভুক্ত হন। এরপর থেকে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাঁর ভূমিকা বাড়তে থাকে।
বনানী ১৩ নম্বর রোডের ডি ব্লকের ৫৩ নম্বরে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় হাওয়া ভবনে তিনি বিভিন্ন খাতের দেশসেরা পেশাজীবী ও বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে গবেষণামূলক কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন। যা দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতিসহ প্রতিটি খাতের কাঙ্খিত উন্নয়ন ও উদ্ভাবনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। আর এই হাওয়া ভবন থেকেই দেশে সর্বপ্রথম রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা হয়। তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের সর্বস্তরের নেতাকর্মীর বিস্তারিত তথ্য নির্দিষ্ট সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।
২০০৭ সালে সেনা–সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ এনে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে নিক্ষেপ করে। শুধু তাই নয়, কারাগারে তারেক রহমানের উপর চালানো হয় অমানসিক নির্যাতন। দিনের পর দিন অবর্ণনীয় শারীরিক নির্যাতন এবং ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকির মুখেও রাষ্ট্রবিরোধী কিংবা রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার প্রস্তাবে রাজি হননি তারেক রহমান।
এক এগারোর সরকার তারেক রহমানকে দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর কারারুদ্ধ রেখে অবশেষে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে সপরিবার লন্ডনে নির্বাসনে পাঠায় এবং নানামুখী ষড়যন্ত্র আর গোপন তৎপরতা চালিয়ে শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসিয়ে দেয়। শেখ হাসিনার সরকার তারেক রহমানের মা দেশের তিন বারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত করে কারাগারে পাঠায়। দলের শীর্ষ নেতৃত্বে বেগম খালেদা জিয়ার অবর্তমানে লন্ডনে বসেই শেখ হাসিনার নিপীড়নমূলক শাসনের বিরুদ্ধে এবং ভোটাধিকার অর্জনের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন তারেক রহমান।
যুক্তরাজ্যে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনে তিনি রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি। সীমাহীন দেশপ্রেম ও দেশের সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে তিনি শক্ত হাতে ঐতিহ্যবাহী দল বিএনপির হাল ধরে রেখেছিলেন। লন্ডন থেকেই দলের কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রেখেছেন। দলীয় সভা-সমাবেশে ভার্চুয়ালি উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রেখেছেন, দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা। যার মাধ্যমে দীর্ঘ সময় সরকারে না থেকেও একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রেখেছেন। বিশেষ করে চব্বিশের ফ্যাসিবাদ বিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি আন্দোলনকে সফল করতে সহায়ক ভূমিকা রাখেন।
সময়ের সঙ্গে দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেকে সমৃদ্ধ ও সহনশীল করে তোলেন। প্রায় ১৮ বছর পর ২৫ ডিসেম্বর নির্বাসন থেকে স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা জারনাজ রহমানকে সাথে নিয়ে স্বদেশে ফিরে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন এবং নির্বাচনী সফরে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে জানিয়েছেন রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার কথা। প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পরিচালনার ‘প্ল্যান’ বাস্তবায়নের। যার মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান তিনি।
এবারে তারেক রহমান মানুষকে শুনিয়েছেন এক ব্যতিক্রমী অহিংস রাজনৈতিক চিন্তার দৃঢ় আশার বাণী। দেশের জনগণ তাঁর ৩১ দফায় আস্থা রেখে ভোট দিয়েছেন। দেশ তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে। রাষ্ট্র পরিচালনায় দেশবাসী তারেক রহমানের কাছে চান নতুন দৃষ্টিভঙ্গির শুভ সূচনা।
রাষ্ট্রের ভঙ্গুর অর্থনীতি টেনে তোলা এবং জাতির প্রত্যাশিত কর্মসংস্থান সৃষ্টির কঠিন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের দৃঢ় সাহস দেখিয়েছেন বলেই তারেক রহমানকে মনের আঙ্গিনায় জায়গা দিয়েছেন এদেশের মানুষ। তিনি জনগণকে ‘কনভিন্স’ করেই নির্বাচনে ছিনিয়ে এনেছেন ভূমিধ্বস বিজয়। শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের ঐতিহাসিক যাত্রায় ‘কনভিন্স’ হয়ে উঠুক পুরো বিশ্ব। তারেক রহমান হয়ে উঠুক দক্ষিণ এশিয়ার সর্বকালের শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়ক।

















