রুমায় অব্যবহৃত কলেজ বাস, কাজে আসছে না শিক্ষার্থীদের

fec-image

বান্দরবানের রুমা সাঙ্গু সরকারি কলেজের অত্যাধুনিক সুপরিসর কলেজ বাসটি কয়েক বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় ক্যাম্পাসে পরে আছে। বৃহৎ আকৃতির বাস হওয়ায় এটি রুমার পাহাড়ি রাস্তায় চলাচলের অনুপযোগী। তাই শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের উদ্দেশ্যে বাসটি দেয়া হলেও কার্যত এটি তাদের কোনো কাজেই আসছে না।

সরেজমিনে এ ব্যাপারে তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, দুর্গম পাহাড়ি পথ পায়ে হেটে কলেজে আসতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে কলেজের শিক্ষার্থীরা। যেসব শিক্ষার্থীদের পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্চল তারা নিয়মিত অর্থ ব্যয় করে স্থানীয় পরিবহনে নিয়মিত কলেজে আসতে না পারছে না। বাধ্য হয়ে পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে হচ্ছে অনেকের। যার প্রভাব পড়ছে কলেজের গড় পাসের হারে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজ প্রাঙ্গণে বাসটি অনেকটা অযত্মে পড়ে আছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার অর্থায়নে এবং উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের (ইউজিডিপি) সৌজন্যে রুমা সাঙ্গু সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য বাসটি দেয়া হয়। রুমা উপজেলা পরিষদ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। রুমার আকাঁবাকাঁ সরু রাস্তায় বাসটি চলাচল করে শিক্ষার্থীদের কলেজে আনা-নেয়া করতে পারবে কিনা, তখন তা বিবেচনা কিংবা আমলে নেয়া হয়নি। যা সংশ্লিষ্ট্ দায়িত্বশীল কর্তা ব্যক্তিদের অদক্ষতা বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।

কলেজ ক্যাম্পাসে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। শিক্ষার্থী মৌমিতা চৌধুরী, তিশা বড়ুয়া ও সেতু বড়ুয়া জানায়, আমাদের জন্য কলেজের গাড়ি আছে। তবে গাড়িটি চলে না। ড্রাইভার নেই। বিভিন্ন কারণেই হয়তো গাড়ি চলে না। সেই কারণে আমাদের প্রতিদিনি যাওয়া আসায় অনেক খরচ পড়ে যায়। যার কারণে অনেক স্টুডেন্ট ক্লাসে আসতে চায় না। এই অচল গাড়িটির পরিবর্তে রাস্তায় চলাচল উপযোগী ছোট ছোট কয়েকটি গাড়ির ব্যবস্থা করে দিলে অনেক ভালো হয়।

শিক্ষার্থীদের এসব সমস্যার কথা স্বীকার করলেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুইপ্রুচিং মারমা। তিনি পার্বত্যনিউজের এ প্রতিবেদককে বলেন, গাড়িটি যেভাবে লম্বা, সে অপেক্ষায় এখানকার রাস্তা ছোট এবং আঁকাবাঁকা। রাস্তার আঁকাবাঁকা স্থানগুলোতে গাড়ি ঘুরতে পারছে না। তাছাড়া কলেজে ড্রাইভারের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। ড্রাইভারের বেতন দিতে গেলে থোক বরাদ্দ প্রয়োজন। না হয় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে ড্রাইভারের বেতন দিতে হবে।

সরেজমিনে আরো জানা যায়, যাতায়াত সমস্যার কারণে অনেকে নিয়মিত ক্লাসে আসতে পারছে না। স্বাভাবিকভাবেই ফলাফলও খারাপ হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ক্লাসে অনিয়মিত উপস্থিতি ও পরীক্ষায় অংশ না নেয়ার কারণে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত কলেজটি আশানুরূপ উন্নতি করতে পারছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাছাড়া রয়েছে শিক্ষক সংকট। অধ্যক্ষের পদও শূন্য। চলছে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে।

কলেজটি ক্রমেই পিছিয়ে পড়ার কারণ জানতে চাইলে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুইপ্রুচিং মারমা বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত হলে নিয়মিত সাময়িক পরীক্ষা ও মাসিক মূল্যায়ন, তাছাড়া তিন মাস পর পর অভিভাবক সভা করা সম্ভব হবে। কলেজের শিক্ষক সংকট ও যাতায়াত সমস্যার সমাধান হলে রুমা সাঙ্গু সরকারি কলেজ আবারও আগের মতো ভালো ফলাফল অর্জন করবে বলে মনে করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, এই বড় গাড়িটির পরিবর্তে ছোট গাড়ি ও ড্রাইভার চেয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দু’বার চিঠি লেখা হলেও এ ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন