ডেস্ক নিউজ:
রাজশাহী: রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) পুলিশ-ছাত্রলীগ ও শিবিরের ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে ৫২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫০০ জন শিবিরকর্মীকে আসামি করা হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ বাদী হয়ে শিবিরকর্মীদের আসামি করে নগরীর মতিহার থানার মামলা চারটি দায়ের করে।
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বাংলামেইলকে জানান, শুক্রবার সকালে মতিহার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদুর রহমান ও ওয়াহিদুর রহমান বাদী হয়ে পুলিশের কাজে বাধাদান ও বিস্ফোরক আইনে দুটি করে চারটি মামলা দায়ের করেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রুয়েট সংলগ্ন অকট্রয় মোড় এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধাদান ও বিস্ফোরক আইনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবির সভাপতি আশরাফুল আলম ইমনসহ ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ২৫০ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এছাড়া রুয়েটের লে. সেলিম হলের সামনে পুলিশের ওপর হামলা ও হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় আরো দুটি মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় রুয়েট শিবিরের সভাপতি হাসান আহমেদসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ওসি আলমগীর হোসেন আরও জানান, বৃহস্পতিবার আটককৃত ১০ জনকে এই দু’টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার জামায়াতের ডাকা হরতাল থাকায় রুয়েট অডিটরিয়ামে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একটি সেমিনারে বাধা দিতে গেলে রুয়েট শাখা শিবিরের সেক্রেটারিসহ দুই নেতাকে আটক করে পুলিশ। পরে শহীদ লে. সেলিম হলে তল্লাশি চালিয়ে আরও ১০ শিবিরকর্মীকে আটক করা হয়।
এরপর ক্যাম্পাসে পুলিশ-ছাত্রলীগের সঙ্গে শিবিরকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য রুয়েটের একাডেমিক কাউন্সিলের এক জরুরি সভায় শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য রুয়েট বন্ধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের শুক্রবার সকাল ১০টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়।
