রূপগঞ্জের অপহৃত মনির পানছড়ি থেকে উদ্ধার

Opohoron Pic

স্টাফ রিপোর্টার:

খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আ. জব্বার ও এএসআই জহির আমিনের চৌকসতায় উদ্ধার হয়েছে রূপগঞ্জের অপহৃত মনির। প্রায় ৩০ ঘন্টার শাসরুদ্ধকর অভিযানে সফলতা আসায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে পানছড়ির রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে সর্বসাধারণ।

জানা যায়, নারায়নগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন ইউনিয়নের কলাতলী গ্রামের মৃত আফর উদ্দিন মোল্লার ছেলে মনির হোসেন (৫২) পেশায় একজন মাছ ব্যবসায়ী। ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নারায়নগঞ্জের গাউছিয়া এলাকা থেকে অজ্ঞান করে মনিরকে নিয়ে আসা হয় সীমান্তঘেঁষা পানছড়িতে। শুক্রবার দুপুরের পর থেকেই মনিরের ব্যবহৃত ০১৭১৪৯৯৫৩০৩ নম্বর থেকে তার পরিবারের কাছে মুক্তিপন হিসাবে দাবি করা হয় ৩ লক্ষ টাকা এবং সেই সাথে পানছড়ি বাজারের বিকাশ এজেন্টের একটি নম্বরও দেয়া হয়।

বিভিন্ন দফা-রফার পর প্রাথমিকভাবে অপহৃত মনিরের পরিবারের পক্ষ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ১৪ হাজার ৭শত টাকা পাঠানো হয় এবং তার পরিবার রূপগঞ্জ থানাকে এ ব্যাপারে অবগত করে।

রূপগঞ্জ থানা পুলিশ বিষয়টিকে আমলে নিয়ে অপহরণকারীদের দেয়া বিকাশ নম্বরটি পানছড়ি থানা এলাকার বলে নিশ্চিত হয় এবং বিষয়টি পানছড়ি থানাকে জানায়। এনিয়ে পানছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আ. জব্বার, এএসআই জহির, ডিএসবি রহিমসহ পুলিশের একটি দল শুক্রবার থেকেই বিভিন্ন বিকাশের দোকানে ওঁত পাতা শুরু করে।

এদিকে অপহরকারীরাও খুব সাবধানতা অবলম্বন করে টাকা নিতে চেষ্টা করে। অবশেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় এই টাকা নিতে আসে শাহিন নামের ১৫ বছর বয়সী এক যুবক। কিন্তু বিকাশ কাউন্টারে ক্যাশ টাকা না থাকায় পরদিন সকালে আসতে বলে দোকানদার। পরদিন শনিবার সকালেও টাকা নিতে না আসায় পুলিশ খুঁজে বের করে শাহিন নামের যুবককে। এর পর থেকেই একে একে বেরিয়ে আসে মূল রহস্য। এরি মাঝে পানছড়িতে হাজির হয় রূপগঞ্জ থানার সাব ইন্সপেক্টর তসলিম উদ্দিন ও এএসআই মো. জাহিদ।

শাহিন নামের যুবক জানায়, এই টাকা উত্তোলনের জন্য পাঠিয়েছে তার ভগ্নিপতি পানছড়ির তক্ষক পাচারকারী হিসাবে খ্যাত কালানাল গ্রামের মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে মালু ওরফে ছোট মালু। এরপর থেকেই শুরু হয় চোর-পুলিশ খেলা। পুলিশের তৎপরতা বুঝতে পেরে অপহরণকারীচক্র একটু পরপরই মনিরকে নিয়ে শুরু করে জায়গা বদল। শনিবার বিকাল থেকে এ কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসে পানছড়ির ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দরা।

অবশেষে শনিবার পুলিশের সাড়াশি অভিযানে কাবু হয় অপহরণকারীচক্র। দলের মূল হোতা মালু শনিবার সন্ধ্যায় মোবাইলে যোগাযোগ করে জানায় অপহৃত মনিরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে এবং তাকে কৌশলে খাগড়াছড়ি নিয়ে ঢাকা যাওয়ার টিকেটও করে দেয়া হয়েছে। এই খবরে রূপগঞ্জ থেকে আসা অপহৃত মনিরের ভাতিজা গোলজার হোসেনসহ কয়েকজন পানছড়ি থেকে খাগড়াছড়ি বাস কাউন্টারে গিয়ে আহতাবস্থায় মনিরকে উদ্ধার করে পানছড়ি নিয়ে আসে।

অপহৃত মনিরের সাথে আলাপকালে সে এই প্রতিবেদককে জানায়, শুক্রবার সকালে জ্ঞান ফেরার পর দেখতে পায় এক পাহাড়ী বাড়িতে তাকে আটকে রাখা হয়েছে। এরি মাঝে শুরু করেছে নির্যাতন। কয়েক দফা নির্যাতনের পর রাত ১২টার দিকে নেয়া হয় বাঙ্গালী বাড়িতে। তখন সে বুঝতে পারে এটা মালুর বাড়ি।

মালু তার মোবাইল দিয়ে মুক্তিপন আদায়ের জন্য শুরু করে যোগাযোগ সাথে শারীরিক নির্যাতন। পুলিশের তৎপরতা বুঝতে পেরে কেউ কেউ তাকে মেরে ফেলার কথাও বলেছেন বলে জানায় মনির। তিনি আরো জানান, মালু, সবু নামের দু’বাঙ্গালী ও দু’জন পাহাড়ী মিলে আমার উপর চালিয়েছে অমানবিক অত্যাচার। অত্যাচারের সময় মুখ গামছা দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রাখা হত।

এ লোমহর্ষক কাহিনী শুনে আতঙ্ক বিরাজ করছে পানছড়ির সর্বস্তরের জনগনের মাঝে। অনেকেই বলছেন পাহাড়ী-বাঙ্গালীর সহবস্থানের দিক দিয়ে পানছড়ি সব সময় নিরাপদ স্থান। এই শান্তির সু-বাতাসে যারা অশান্তির আগুন জ্বালাতে চেষ্টা করছে তাদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা হোক।

এ ঘটনায় পুলিশের হাতে আটক শাহিন ও উদ্ধার হওয়া মনির হোসেনকে নিয়ে রবিবার সকালে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ পানছড়ি ত্যাগ করে।

এই অভিযানের নেতৃত্ব প্রদানকারী পানছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আ. জব্বার জানান, অপহৃত মনিরকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। অপহরণকারী চক্রকে ধরতে পানছড়ি থানা পুলিশ সব সময় তৎপর। এ ব্যাপারে জনগনকেও সার্বিক সহযোগিতা করার আহব্বান জানান তিনি।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

19 − 2 =

আরও পড়ুন