রেললাইন প্রকল্পে ভূমি জটিলতা দ্রুত সমাধান করা হবে: রেলপথ মন্ত্রী

fec-image

রেলপথ মন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন এমপি বলেছেন, রেললাইন প্রকল্পে কিছু ভূমি বিষয়ক জটিলতা রয়েছে। দ্রুত তা সমাধান করা হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই রেললাইন নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) দোহাজারী-কক্সবাজার হয়ে রামু-ঘুমধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নির্মিতব্য কক্সবাজারে আইকনিক রেলস্টেশন ভবনের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আগামী ২০২২ সালের মধ্যেই দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার-ঘুমধুম রেল লাইন চালু করা হবে। সেজন্য দ্রুতগতিতে রেললাইন নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যার অগ্রগতি বেশ দৃশ্যমান ও আশাব্যঞ্জক।

রেলপথ মন্ত্রী বলেছেন, কক্সবাজারকে বিশ্বমানের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলওয়েকে উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছাতে চান। তিনি রেলে উন্নয়নের ব্যাপারে খুব বেশি আন্তরিক। তাই অবহেলিত রেলখাতকে গুরুত্ব দিয়ে ব্যাপক উন্নয়ন করছেন। তিনি আলাদা মন্ত্রণালয় করে দিয়েছেন।

‘সরকারের ১০টি মেগা প্রকল্পের মধ্যে দুটি হচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। যার একটি হচ্ছে দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প। ভবিষ্যতে কক্সবাজার থেকে রামু হয়ে মিয়ানমারের নিকট ঘুমধুম পর্যন্ত নেওয়া হবে এবং যা চীন পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে বলেও যোগ করেন মন্ত্রী।

কক্সবাজার রেললাইন চালু হলে পর্যটনের ব্যাপক প্রসার ঘটবে উল্লেখ করে রেলমন্ত্রী বলেন, রেললাইনের কাজ শেষ হলে দেশের অগ্রগতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই প্রকল্পটিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-রামু) আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম, কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নাদিরা সুলতানা জলি এমপি, কানিজ ফাতেমা মোস্তাক এমপি, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা, কক্সবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েল।

এ সময় রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পদস্থ সরকারি কর্মকর্তাসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রেলপথ নির্মাণে অধিগ্রহণকৃত ভূমির ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতি হওয়ার বিষয়টি রেলপথ মন্ত্রীর নজরে আনেন কক্সবাজার-১ আসনের এমপি জাফর আলম এবং কক্সবাজার-৩ আসনের এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল।

এমপিদ্বয় বলেন, ‘রেললাইন নির্মাণে কক্সবাজার জেলায় ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম এবং অনেক ক্ষেত্রে জায়গার প্রকৃত মালিকেরা ক্ষতিপূরণের টাকা পাননি বলে অহরহ অভিযোগ উঠেছে। তাই বিষয়টির প্রতি সুদৃষ্টি দিয়ে জমির প্রকৃত মালিকেরা যাতে ক্ষতিপূরণ পায় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি মাননীয় মন্ত্রীর মহোদয়ের কাছে।’

আইকনিক রেলস্টেশন ভবনের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেন মন্ত্রী।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্র জানায়, দোহাজারী থেকে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চকরিয়া, রামু, কক্সবাজার, উখিয়া এবং নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম পর্যন্ত ১২৮ কিমি রেললাইন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। ভূমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ বাবদ দিতে ২ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনকে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন সম্ভব না হলে প্রকল্প ব্যয় বাড়তে পারে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এ প্রকল্পে অর্থের জোগান দিচ্ছে। কাজটি বাস্তবায়নে ২০১৭ সালে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রেলওয়ের চুক্তি হয়। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা থাকায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজও দেরিতে শুরু হয়।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 − three =

আরও পড়ুন