রোহিঙ্গাদের জন্য এডিবি’র ৬৫৩ কোটি টাকা অনুদান

fec-image

মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের উন্নয়নে নানা ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন করে ৭ দশমিক ১ কোটি মার্কিন ডলার অনুদান দেবে সংস্থাটি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৬৫৩ কোটি ২০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার সমান ৯২ টাকা ধরে)। স্বাস্থ্য সেবা, সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিতে দুটি খাতে এ অনুদান অনুমোদন করেছে সংস্থাটি। প্রথম খাতে চার দশমিক ১৪ কোটি ডলার ও দ্বিতীয় খাতে দুই দশমিক ৯৬ কোটি ডলার অনুমোদন করেছে।

বুধবার (২২ জুন) এডিবি’র ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।  এতে বলা হয়, এডিবির চলমান জরুরি সহায়তা প্রকল্পের আওতায় এ অনুদান দেওয়া হচ্ছে। যা ২০১৮ সালে অনুমোদিত ১০০ মিলিয়ন ডলারের অনুদানের আওতায় অনুমোদন দেওয়া হলো।

বাংলাদেশে নিযুক্ত এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং বলেন, নতুন স্বাস্থ্য সেবা, সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন সুবিধা উন্নতি করা হবে। এর মাধ্যমে কোভিড-১৯ এবং ভবিষ্যতের যেকোনো মহামারির বিরুদ্ধে টেকসই উন্নয়ন শক্তিশালী করবে। এসব সহায়তা দুর্যোগের ঝুঁকি কমিয়ে রোহিঙ্গাদের মানবিক চাহিদা পূরণ করবে।

অনুমোদিত অনুদানের মাধ্যমে ২০০টি পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা এবং তিনটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সুবিধা তৈরি করবে। উখিয়ায় একটি পাইপযুক্ত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থাপন করবে। এছাড়া চারটি স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার আপগ্রেড করবে, টেকনাফে ছয়টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার সম্প্রসারণ করবে, কক্সবাজার জেলায় স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের দক্ষতা উন্নত করবে এবং সাহায্য করার জন্য একটি বহুমুখী দুর্যোগ-প্রতিরোধ কেন্দ্র নির্মাণ করবে।

দ্বিতীয় খাতে দুই দশমিক ৯৬ কোটি ডলার অনুমোদন করেছে সংস্থাটি। নতুন অনুদানে টেকনাফ ও কক্সবাজারের মধ্যে ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করা হবে। এ জন্য জাতীয় মহাসড়কের ৩০ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার অংশ উন্নয়ন করা হবে। উন্নত রাস্তাটি এ অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং আয় বাড়ানো সহজতর করবে।

এডিবি সহায়তা এখন পর্যন্ত বিশুদ্ধ পানি, গোসল সুবিধা, খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র এবং দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র সরবরাহ করেছে। যা ক্যাম্প এবং হোস্ট সম্প্রদায়ের ১ দশমিক ২ মিলিয়নেরও বেশি লোককে উপকৃত করেছে।  সোলার স্ট্রিট ল্যাম্প এবং লাইটনিং অ্যারেস্টারের মাধ্যমে ক্যাম্পে নিরাপত্তাও উন্নত হয়েছে। ক্যাম্পের অভ্যন্তরে রাস্তা, হাঁটার রাস্তা এবং ক্যাম্পের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি খাদ্য বিতরণ এবং অন্যান্য পরিষেবার উন্নতি করেছে এডিবি অনুদান

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ৬৫৩ কোটি টাকা, এডিবি, রোহিঙ্গা
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 − three =

আরও পড়ুন