রোহিঙ্গা ক্যাম্প অধ্যুষিত এলাকায় বাড়ছে কিশোর অপরাধ

fec-image

★ অপরাধে জড়াচ্ছে স্থানীয় ও রোহিঙ্গা কিশোরেরা ★ বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত ★ ছিনতাই, চুরিতে জড়াচ্ছে অহরহ

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা উখিয়া উপজেলায় বাড়ছে কিশোর অপরাধ। বেড়েছে ছিনতাই, চুরির প্রবণতা। গত কয়েকদিনে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় একাধিক চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

জানা যায়, সোমবার (৩১ মে) ভোর সকালে উখিয়ার পালংখালী গয়াল মারা নামক এলাকায় একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কিশোরের একটি সংঘবদ্ধ দল সড়কে দা, ছুরি, হাতুড়ি নিয়ে সিএনজি ও টমটম থামিয়ে যাত্রীদের জখম করে কয়েকটি মোবাইল ফোন ও তাদের কাছ থেকে নগদ প্রায় অর্ধ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। ভুক্তভোগী যাত্রীদের মধ্যে স্থানীয় ও কয়েকজন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝিও ছিল বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি উখিয়ার রাজাপালং জাদিমুড়া এলাকায় সড়কে দিনেদুপুরে কিশোর গ্যাংয়ের ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে যাত্রীরা এমন খবর পাওয়া গেছে।

এর কয়েকদিন আগে, উখিয়ার ভালুকিয়া গ্রামের ফৈজাবাপের পাড়া এলাকার সাগর নামে এক কিশোর মাদক ক্রয়ের টাকা না পেয়ে আমতলী এলাকার প্রবাসী হারুনের বাড়িতে ঢুকে স্মার্টফোন চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, উখিয়ায় গ্রামে গ্রামে বাড়ছে কিশোর অপরাধ। করছে ছিনতাই, চুরি, মাদকসেবনসহ নানা অপরাধ। মরণ নেশা ইয়াবা-ফেন্সিডিল, ড্যান্ডি, আইসের মতো মাদকদ্রব্য সেবনের পাশাপাশি পাচার কাজেও ভূমিকা রাখছে তারা।

সচেতন মহল বলেন, শুধু স্থানীয়রা নয়, রোহিঙ্গা কিশোরেরাও অপরাধে জড়াচ্ছে। তারাই সবচেয়ে বেশি মাদক সেবন ও পাচার করে থাকে। চুরি ও ছিনতাইয়ের পাশাপাশি তারা খুনও পর্যন্ত করে। ইতিপূর্বে রোহিঙ্গাদের হাতে স্থানীয় খুন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

সচেতন মহল মনে করেন, আমরা যদি যার যার নিজের অবস্থান থেকে সচেতন হই তাহলে এসব অপকর্ম করার সুযোগ পাবে না কিশোরেরা। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া জরুরি। নিজের এলাকা ও সন্তানদের অপরাধমুক্ত রাখতে অভিভাবকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন বলেন, সাম্প্রতিককালে উখিয়ায় কিশোর গ্যাং বৃদ্ধি পেয়েছে। আমার এলাকায় বিকালের দিকে রাস্তার মাথায় জুয়ার আসর বসে। কিছু কিশোরেরা এলাকার শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করার চেষ্টায় লিপ্ত। বিভিন্ন সময় অনেকেই এসব বিষয় ফেসবুকে তুলে ধরেছেন। যা ইতোমধ্যে নজরে এসেছে। সেই সাথে উখিয়া থানা পুলিশকেও জানানো হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে সঠিক খবর পেলে এসব জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দেখা মিলেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন অপরাধ চোখে পড়েছে। স্থানীয় কিশোরেরা কিভাবে ও কার ছত্রছায়ায় থেকে এসব অপরাধ সংঘটিত করছে তা খতিয়ে দেখা জরুরি। পাশাপাশি এসব বিপথগামী কিশোরদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনবোধ করছি।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহাম্মদ সনজুর মোরশেদ বলেন, কিশোর গ্যাং চিহ্নিত করে তাদের বিষদাঁত ভেঙ্গে দেয়া হবে। কোনো অপরাধী পার পাবে না। তথ্য নিয়ে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 5 =

আরও পড়ুন