লংগদুতে ১৬ বছর পর জামায়াতের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত


রাঙ্গামাটির লংগদুতে ১৬ বছর পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী লংগদু উপজেলা শাখার আয়োজনে কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯ টায় লংগদু উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাবেতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর লংগদু উপজেলা শাখার আয়োজনে উক্ত কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে মাইনী ইউনিয়নের পূর্ব জামায়াতের আমির মুহাম্মদ শিহাব উদ্দীন শিহাব এর সঞ্চালনায়, এবং লংগদু উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুহাম্মদ নাছির উদ্দীন এর সভাপতিত্বে এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহাজান।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবদুল আলিম, রাঙ্গামাটি জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মুহাম্মদ জাহাঙ্গির আলম,জেলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মনসুরুল হক,জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট হারুন অর রসিদ, রাঙ্গামাটি পৌর জামায়াতের আমির আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি শহীদুল ইসলাম (সাফি) লংগদু উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা এ এল এম সিরাজুল ইসলাম সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন পার্বত্য চট্টগ্রামে যারা সাম্প্রদায়িকতা ছড়ায় তারা দেশ প্রেমিক নয়। তারা সাম্প্রদায়িকতাকে পুঁজি করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, স্বৈরাচারদের কোন ষড়যন্ত্র যাতে সফল হতে না পারে সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। দীর্ঘ ১৬ বছর পর খোলা আকাশের নিচে মুক্ত বাতাসে লংগদু উপজেলা জামাতে ইসলামী লংগদু উপজেলার আয়োজনে বিশাল কর্মী সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মোহাম্মদ শাহাজাহান এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন বাংলাদেশে যারা বসবাস করে তারা সবাই বাংলাদেশি এখানে কে কোন ধর্মের তা বিবেচ্য নয়,ইসলাম সবার অধিকার সংরক্ষণ করেন যেমনি করে গেছেন নবি- রাসুল ও খোলাফায় রাশেদার যুগে।
এসময় বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘ ১৬টি বছর স্বৈরাচার সরকার হাসিনা ইসলামকে বাংলার মাটি থেকে মুছে দিতে চেয়েছিলো। তারা মনে করেছিলো তারা এ দেশে সারা জীবন রাজত্ব কায়েম করবে। কিন্তু ৫ আগস্ট আল্লাহর অলৌকিক শক্তিতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে লেজ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। আমরা আশা করবো বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শান্তি পূর্ণভাবে নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন দিয়ে বাংলাদেশকে কলঙ্ক মুক্ত করবে।
বক্তারা আরো বলেন,১৬ টি বছর এদেশটাকে স্বৈরচারী করে ফেলেছিলো হায়েনারা। তাদের এই অত্যাচার নিপীড়ন রুখে দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্র সমাজের গণ-আন্দোলনে সেদিন স্বৈরাচার সরকার শেখ হাসিনা পালাতে বাধ্য হয়। আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি সেদিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান যে ভূমিকা পালন করেছেন এ দেশের মানুষ তা সারা জীবন মনে রাখবে। এই স্বৈরাচার সরকার জামায়াত ইসলামিকে নানা অযুহাতে বিভিন্ন ভাবে বঞ্চিত করে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে জামায়াতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

















