লকডাউনে উখিয়ায় এক রোহিঙ্গার বাড়ীতে ৫ হাজার লোকের ভূরিভোজের আয়োজন

fec-image

২০১১ সালে পরিবার-পরিজন নিয়ে পাশ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে এক কাপড়ে পালিয়ে এসে উখিয়া উপজেলার পূর্বডিগলিয়াপালং (চিতলী মোরা) নামক স্থানে আশ্রয় নেয় রোহিঙ্গা হাকিম আলী। কিছু দিন যেতে না যেতে জড়িয়ে পড়ে ইয়াবা কারবারে। বর্তমানে কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। যার প্রেক্ষিতে কথায় কথায় প্রশাসনের ক্ষমতা দেখিয়ে থাকে সে।

করোনা লকডাউনে মানুষ যেখানে ঘরবন্দি অবস্থায় জীবন-যাপন করছে, ঠিক সেই মুহুর্তে (৮জুন) মঙ্গলবার ছেলের খতনা অনুষ্ঠান উপলক্ষে ৫ হাজারের লোকের ভুরিভোজের আয়োজন করেন রোহিঙ্গা হাকিম আলী। যার প্রস্তুতি হিসেবে সোমবার দিবাগত রাত থেকে লক্ষাধিক টাকার আতসবাজিতে গ্রামের লোকজনের রাতের ঘুম-হারাম করে দেয়৷ মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে ভুরিভোজ। বিষয়টি প্রশাসন জানার পর থানা পুলিশ ওই বাড়ি গিয়ে নিষেধ করে চলে আসে৷ পুলিশ চলে আসার সাথে সাথে ফের তাদের আয়োজন শুরু করে দেয়।

স্থানীয় ছৈয়দুল আলম অভিযোগ বলেন, সারাদেশে লকডাউনের পাশাপাশি উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের ৪টি ওয়ার্ডে ১৩জুন পর্যন্ত রেডজোন ঘোষণা করা হয়। কিন্তু একজন রোহিঙ্গা হয়ে এসব নির্দেশনা না মেনে এতো আয়োজন কিভাবে করেন৷ তার এতো ক্ষমতার উৎস কোথায়? এমন পরিস্থিতিতে এই ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চলতে থাকায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় সাধারণ জনগণ।

খোঁজ খবর নিয়ে জানাযায়, এদেশে আশ্রয়ের সুযোগে স্থানীয় এক গৃহবধুর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে হাকিম আলী। ওই নারীর স্বামী পাকিস্তান থাকার সুবাধে তাকে বিয়ে করে। অথচ মিয়ানমার থেকে চলে আসার সময় তার ১ স্ত্রী ও ৩টি সন্তান ছিল৷ পরবর্তীতে তাকে তাড়িয়ে দিলে ওই রোহিঙ্গা নারী স্থানীয় আরেকজন ছেলেকে বিয়ে করে। কিন্তু তার কাছে হাকিম আলীর ৩টি সন্তান রয়েছে। তৎমধ্যে বড় ছেলে পুতিয়া কিছু দিন আগে রেজু আমতলী বিজিবির হাতে দেড় লাখ ইয়াবাসহ আটক হয়ে জেল হাজতে রয়েছে। এই ধরনের পূর্বডিগলিয়াপালং একডজন যুবক তার ইয়াবা নিয়ে আটক হয়ে দেশের বিভিন্ন জেলে রয়েছে। এতো বড় ইয়াবা গডফাদারের পাশাপাশি একজন রোহিঙ্গা হওয়ার পরেও স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় সে দেদারছে ইয়াবা কারবার করে যাচ্ছে।

গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যমতে, হাকিম আলীর সাথে মিয়ানমারের বড় বড় রাখাইন লোকজনের সাথে পরিচয় থাকায় তার এক মুঠোফোনে শত কোটি টাকার ইয়াবা বাকিতে দিয়ে দেয়। যা নিয়ে এসে বিক্রি করে পরে টাকা পরিশোধ করে থাকেন সে। এতে সীমান্তের ইয়াবা ব্যবসা বন্ধ হচ্ছেনা বলে এলাকাবাসির অভিযোগ৷

এব্যাপারে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন লকডাউনে কোন প্রকার জনসমাগম করার সুযোগ নেই, তাই আমি বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জকে বলে দিয়েছি।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আহাম্মদ সঞ্জুর মোরশেদ বলেন, বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ ওই বাড়ীর লোকজনকে নিষেধ করে এসেছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 2 =

আরও পড়ুন