লাঠি ভর করে ডিগ্রিতে পড়া চৈতালির চাহিদা সেলাই মেশিন

fec-image

পানছড়ি সদর ইউপির মির্জিটিলা মধুমঙ্গলপাড়া গ্রামের মেয়ে চৈতালি চাকমা। জন্ম থেকেই সে প্রতিবন্ধী। তার বাম পায়ের হাটু থেকে নিচের অংশ একেবারে চিকন আর বাঁকানো। তাই হাঁটিহাঁটি পা পা অবস্থায় রপ্ত করে নেয় লাঠি ভর দিয়ে চলা। আর সেই লাঠির উপর ভর করেই প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডি পার হয়ে এখন ডিগ্রি ৩য় বর্ষে অধ্যয়নরত।

সরেজমিনে বাড়িতে গিয়ে কথা বলে জানা যায়, তার মা ইন্দ্রমুখী চাকমা ও প্রতিবন্ধী বাবা সুখ রঞ্জন চাকমা যথাক্রমে ২০১৪ ও ১৬ সালে মারা যায়। বাবার রেখে যাওয়া ঘরে একমাত্র বড় ভাই অমর কান্তি চাকমার সাথেই তার বসবাস। ঘর ভিটা ছাড়া বাবার আর কোন জায়গা-জমি না থাকায় পরের জমি বর্গা চাষ আর দিন মজুরী করেই চলছে ভাইয়ের সংসার।

মিষ্টিভাষী চৈতালি জানায়, লাঠি ভর করেই বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে পানছড়ি মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩.৮১ নিয়ে এসএসসি ও ২০১৪-১৫ সালে ঢাকা কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৩.৩৮ নিয়ে এইচএসসি পাশ করে। বর্তমানে সে পানছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজে তৃতীয় বর্ষে পড়ালেখার পাশাপাশি উপজেলা মহিলা অধিদপ্তরের আওতাধীন সেলাই প্রশিক্ষণ কোর্স প্রশিক্ষনরত। এরি মাঝে সেলাই রপ্ত করেছে। নিজের সেলাই মেশিন থাকলে গ্রামের ছোট-খাট সেলাইকাজগুলো করে নিজ খরচের টাকাগুলো হয়ে যেত বলে জানায়।

বর্তমানে তিন মাস পর পর প্রতিবন্ধী ভাতা বাবদ ২২৫০ টাকাই তার একমাত্র সম্বল। তার বড় ভাই কষ্ট করে হলেও তার ভরণ পোষন, পড়ালেখা, পোশাকাদির চাহিদা মিটায়। তাছাড়া কলেজ অধ্যক্ষ সমীর দত্ত চাকমা তাকে লেখাপড়ার ব্যাপারে সব ধরণের সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে বলে জানায়।

প্রতিবেশী পানছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদীপ চন্দ্র চাকমা জানায়, অত্যন্ত গরীব পরিবারের মেয়ে। পড়ালেখার প্রতি তার খুব আগ্রহ। নতুন প্রজন্মের কাছে সে একটি দৃষ্টান্ত বলে তিনি জানান।

পানছড়ি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সমীর দত্ত চাকমা জানান, মেয়েটি লাঠি ভর করে দীর্ঘ বছর রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই কলেজে নিয়মিত আসা যাওয়া করে। তাকে কলেজের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা দেয়া হয়েছে। বর্তমানে সে লেখাপড়ার পাশাপাশি সেলাই প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। বিত্তবানরা তাকে দু’একটি মেশিন দিলে হয়তো ঘরে বসে তার খরচাদির টাকাগুলো নিজেই আয় করতে পারবে।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিবন্ধী অফিসার মো. শাহজাহান জানান, মেয়েটির মেধার কথা শুনে ভালোই লাগছে। লাঠি ভর করে ডিগ্রি ৩য় বর্ষের ছাত্রী চৈতালি চাকমাকে আইডল বলা চলে। একখানা আবেদন নিয়ে গেলে তার সেলাই মেশিনের ব্যাপারটি আন্তরিকতার সহিত দেখবেন বলে জানান।

পানছড়ি প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংঘের সভাপতি মো. হাসানুজ্জামান বলেন, মেয়েটি এতিম তাছাড়া মেধাবী। তার প্রতি বিত্তবানরা একটু নজর দিলেই লেখাপড়ার পাশাপাশি সেলাই কাজ চালিয়ে যেতে আরো দ্বিগুন আগ্রহ পাবে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: প্রতিবন্ধী
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen + 3 =

আরও পড়ুন