লামা প্রতিনিধি:
বান্দরবানের লামা বনবিভাগের হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলার আসামী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন উপজেলার সরই ইউনিয়নের কালাইয়া এলাকার ছয় দিনমজুর পরিবার। বনবিভাগ তাদের একেক জনের বিরুদ্ধে ২-৩ টি মিথ্যা মামলা দায়ের করায় আদালতে প্রতিমাসে ২-৩ তিনবার হাজিরা দেওয়া, উকিল ফি ও যাতায়াত খরচ যোগাড় করতে গিয়ে ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ে সর্বশান্ত হয়ে পড়ছে দিনমজুরগন। তারা এ মিথ্যা মামলার হয়রানী থেকে রেহাই পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জানা গেছে, ১৯৮২ সাল থেকে উপজেলার সরই ইউনিয়নের কালাইয়া এলাকায় অন্যদের মত বসবাস করে আসছে শহীদুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইউনুচ, রাবেয়া বেগম, ফজলুল হক, বিল্লাল হোসেন, মাইনুদ্দীন ও আব্দুল হাকিম। মানুষের বাড়ীতে দিনমজুরী ও জমিতে চাষ করেই চলে ওদের জীবন জীবিকা। একই এলাকায় লামা বন বিভাগের ডলুছড়ি রেঞ্জের আওতাধীন সংরক্ষিত বনাঞ্চল রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, গত বছর গাছ কাটার মৌসুমে এ রেঞ্জের অধীনে ক্যয়াজুপাড়া বিটের এক ফরেস্টার বনের গাছ বিক্রি করেন কয়েকজন গাছ ব্যবসায়ীদের কাছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাসকারী বেশ কয়েকজন কৃষক গাছগুলি কাটতে বাধা দেন। তবু ওরা গায়ের জোরে বেশ কিছু গাছ কেটে নেয়। পরে বন কর্মকর্তা কর্তৃক গাছ কাটার বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। এতে বিপাকে পড়েন বনবিভাগের কর্মকর্তারা। তাই নিজেদের বাঁচানোর জন্য তৎসময়ের ক্যায়াজুপাড়া বিট কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বাদী হয়ে নিরীহ ৬ দিনমজুরের বিরুদ্ধে গত মার্চ মাসে একটি ও ২৮ এপ্রিলসহ উপজেলা জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ৩টি গাছ কাটার মামলা করেন।
মামলার আসামী ৭৫ বছরের বৃদ্ধ মাঈনুদ্দীন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বন কর্মকর্তারা প্রথমে তাকে মামলার স্বাক্ষী হতে বলেন। অন্যথায় তাকে মামলার আসামী করা হবে হুঁশিয়ার করেন। মামলার অপর আসামী বিল্লাল হোসেন জানান, তার বসত বাড়িটি বন কর্মকর্তারা বনবিভাগের বলে দাবী করে তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করেন।
আসামী শহীদুল ইসলাম জানান, সে গত বছর পুরোটা সময়ই লামার আজিজনগর এলাকায় তার বাপের বাড়ীতে ছিলেন। বন কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে কেউ তাকে বনবিভাগের মামলার আসামী করেছে বলে তিনি দাবী করেন। আসামী ৭৮ বছরের বৃদ্ধ মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, পাহাড় থেকে গাছ কাটাতো দূরের কথা, আমি ৫ কেজি চাউল নিয়ে বাজার থেকে হেঁটে বাড়ীতে যাওয়ার মত শক্তি সামর্থও আমার নেই। অথচ আমাকে গাছ কাটার মামলায় আসামী করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, স্থানীয় নবী হোসেন নামের এক ব্যক্তি আমাদের বসতবাড়ির পাশ্ববর্তী বনবিভাগের গাছগুলি সারাবছরই কেটে কেটে বিক্রি করেন। তার সাথে বনকর্মতাদের লেনদেন চলে। তিনিই মূলত নিজেকে ও বনকর্মকর্তাদের বাচাঁনোর জন্য আমাকে, আমার স্ত্রী ও অন্যান্যদের মামলার আসামী করেছেন।
ক্যায়াজুপাড়া বিট কর্মকর্তা ও গাছ কাটা মামলার বাদী মো. জাহিদ হাসান বলেন, বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে জাম ও গর্জনসহ বিভিন্ন মূল্যবান গাছ কাটার অপরাধেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। কাউকে হয়রানি করার জন্যে নয়।